রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলের কারণে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া চিলাখাল এলাকার তিস্তার ডাইক ভেঙ্গে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় লোকজন বাঁশ, বালির বস্তা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া, আত্রাই, ধরলা, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত ৩৬ ঘন্টায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছ এ অঞ্চলে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিনদিন এ অঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাবে। একটানা বর্ষণে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষ রয়েছে ভাঙ্গন আতংকে। সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলে এখন বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
জানা যায়, গত সপ্তাহে হঠাত্ করে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া চিলাখাল এলাকার তিস্তার ডাইকে আঘাত হানে। ফলে ডাইকটির প্রায় দৈর্ঘ্যে ৬শ’ ফুট ও প্রস্থে অর্ধেক ভেঙ্গে যায়। ডাইকটি এই মুহূর্তে সংস্কার না করলে কয়েকশ’ একর ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর, মত্স্য খামার এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ মূল বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।
ভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডাইকটির ৬শ’ ফুট ধসে গেছে। এলাকাবাসী স্থানীয়ভাবে বাঁশ পাইলিং, ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রক্ষার চেষ্টা করছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও তবিবুর রহমান ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান জানান, তিনি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে রংপুর ও রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছিল। সোমবার তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৭৬ সেন্টিমিটার। রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানিও বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গতকাল রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ১৭ সেন্টি মিটারে। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ১০ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রাজশাহীর পদ্মা ও সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডালিয়া পয়েন্টের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন মন্ডল জানান, ডালিয়া পয়েন্টে আরো পানি বাড়বে। তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে এখন ২৮ দশমিক ১০, কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ২৪ দশমিক ৭৫ সেন্ট্রিমিটার এবং চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র পয়েন্টে ২১ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটারে পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায় পদ্মা, তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৩ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ফলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ৩৬ ঘন্টায় উত্তরাঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০০ মিলিমিটার। টানা বর্ষণে উত্তরের বিভিন্ন শহরের অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও ড্রেন সংস্কারের অভাব এবং অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টিপাতে শহরের নিম্নাঞ্চলগুলো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ শহরবাসির। জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
