খেলোয়াড় লিওনেল মেসির ভক্তের সংখ্যাটা নিশ্চয়ই বিপুল পরিমাণ। কিন্তু, আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসাবে মেসি কেমন? সেই প্রশ্নের উত্তরে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া জানালেন, খেলোয়াড় তো বটেই নেতা মেসিরও দারুণ ভক্ত তিনি। আসন্ন বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দারুণ কোন ফলই সমর্থকদের উপহার দেবে বলে বিশ্বাস এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকার।
পাশাপাশি মারিয়া জানিয়েছেন, সতীর্থদের পছন্দের ভিত্তিতেই মেসিকে দলের অধিনায়ক নির্বাচন করেন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা।
কাতালানদের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রায় শুরু থেকেই মাঠের পারফরম্যান্স দারুণ হলেও, সেখানে অধিনায়কের কাজটি করা হয়নি মেসির। আর, অস্প্যানিয় কোন খেলোয়াড়কে অধিনায়ক করার খুব বেশি উদাহরণও খুঁজে পাওয়া যাবে লা লিগায়। তবে, বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মেসির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই আর্জেন্টিনার অন্য খেলোয়াড়দের উত্সাহিত করে মেসিকে অধিনায়ক হিসাবে নির্বাচিত করার ব্যাপারে। তাই ২০১১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিতই আলবাসিলিস্তাদের অধিনায়কের দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে মেসিকে। ব্যতিক্রম হয়নি এবারের বিশ্বকাপেও। আর্জেন্টিনার সুদীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর ক্ষেত্রে খেলোয়াড় মেসির পাশাপাশি তাই অধিনায়ক মেসিকেও রাখতে হবে বড় ভূমিকা।
মেসি-গঞ্জালো হিগুইন-সার্জিও অ্যাগুয়েরোদের নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ মেসির সুযোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বকাপে দুর্বার রূপ ধারণ করবে বলেই বিশ্বাস উইঙ্গার মারিয়ার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়ালের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করা এই তারকা জানান, সতীর্থ খেলোয়াড়দের ইচ্ছাই মেসিকে অধিনায়ক করার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘অধিনায়কের আর্মব্যান্ড কে পড়বে সেটা ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের উপরেই ছিলো এবং আমরাই মেসিকে বেছে নিয়েছি। সে অসাধারণ একটা বিশ্বকাপ কাটাবে বলে আমার বিশ্বাস। খেলোয়াড় হিসাবে সে অসাধারণ। আর ব্যক্তি, বন্ধু কিংবা সতীর্থ হিসাবেও সে ভরসা করার মতো। সব মিলে আমি বলবো অধিনায়ক হিসাবে এক নম্বর পছন্দই বলা চলে তাকে।’
আর খেলোয়াড় মেসির ব্যাপারেও পুরনো মুগ্ধতা নতুন করে ঝরলো মারিয়ার কণ্ঠে, ‘অলিম্পিকে তাকে যখন প্রথম দেখি তখনই সে বেশ পরিচিত ছিল। প্রতেক্যেই বলছিলো লিও নামের একজনের কথা। আমি পরিচিত হলাম এমন একজনের সঙ্গে যে ছিল (মানসিকভাবে) দারুণ শক্তিশালী। সে ছিল খুবই বিপজ্জনক এবং মাঠে আমার ভূমিকাটা ছিল তার ঠিক পাশেই। তাকে সতীর্থ হিসাবে পাওয়াটা সবসময়ই আনন্দের।’
দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে সেই ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জেতার চার বছর পর জার্মানির বিরুদ্ধে পরের আসরে ফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। এরপর গত দুই যুগে একবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে। মেসিকে কেন্দ্র করে গত বিশ্বকাপেও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখলেও শক্তিশালী জার্মানদের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যেতে হয় তাদের। তবে, মারিয়া দাবি করলেন এবার ঘুচবে সেই শিরোপা বন্ধ্যাত্ব। সতীর্থদের মনোভাব এবং দলীয় সমঝোতাই এই স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাকে, ‘আমরা সবাই চাই ভাল করতে। আমাদের দলটা দারুণ একতাবদ্ধ এবং এই পর্যায়ে আসতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমরা সেই পরিশ্রমটা চালিয়ে যেতে চাই।’ সকার ওয়ে অবলম্বনে।
