ভারতে পাচার হচ্ছে বাগদার রেণু পোনা

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৪, ২৩:১২
বৃহত্তর খুলনার প্রায় ৫০ হাজার চিংড়ির ঘেরে বাগদার রেণুু পোনার সংকট থাকলেও অধিক মুনাফার লোভে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় দেশ থেকে পোনা পাচার হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন এ অঞ্চলের মোকামগুলিতে অন্তত কয়েক কোটি পোনা আসছে। এর মধ্যে বিপুল পোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে। পাশাপাশি চব্বিশ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ মোকাম থেকে গলদার রোগাক্রান্ত রেণুু পোনা এ দেশের সীমান্ত পথ গলিয়ে আসছে। স্থানীয় মোকামগুলিতে প্রতি হাজার বাগদা চিংড়ির রেণুু পোনার মূল্য ৬শ’ টাকা। পক্ষান্তরে চোরাচালানীরা হিঙ্গলগঞ্জ মোকামে প্রতি হাজার রেণু পোনা ৬শ’ রুপিতে বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। রেণু পোনার সংকট সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় মোকামগুলিতে গত দুই মাসে পোনার দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। সাতক্ষীরা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, মে মাসের শেষভাগ থেকে বাগদার রেণু পোনা ভারতে পাচার হচ্ছে। পাশাপাশি ওই দেশ থেকে রোগাক্রান্ত গলদার রেণু পাচার হয়ে আমাদের দেশে আসছে। পাচার হয়ে আসা ওই গলদার রেণু রোগাক্রান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিজিবি’র সাতক্ষীরা অঞ্চলের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাজাহান সিরাজ সাংবাদিকদের জানান, দেবহাটার কুলিয়া ব্রিজের নিকট চিংড়ি পোনা বেচাকেনা হয়। কিছুদিন আগে একবার সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢোকার সময় পোনার একটি চালান আটক করে তা বিনষ্ট করা হয়। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বাগদার পোনা চোরাচালানের তেমন কোন খবর আপাতত পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সুপারি ও ইলিশ পাচার হওয়ার কথা মাঝে-মধ্যে শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, খুলনার কয়রা উপজেলার আংটিহারা থেকে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত পর্যন্ত ৯টি পয়েন্ট দিয়ে বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পাচার হয়ে থাকে। এর মধ্যে সোনাবাড়িয়া, ভাতশালা, বসন্তপুর, হাড়দ্দা, খানঞ্জিয়া, ভাড়াসিমলা পয়েন্টগুলো উল্লেখযোগ্য।