ওসমানী মেডিক্যালে পড়তে হলে চাঁদা দিতে হয় ছাত্রলীগকে

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৪, ২৩:১৯
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষের ছাত্র, ছাত্রদল নেতা তাওহীদুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত একই কলেজের ছাত্র ও ছাত্রলীগের সভাপতি সৌমেন দে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, তাদের দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাওহীদকে। ছাত্রলীগের ১৫ জন মিলে এই কাজ করে। সৌমেন আরো বলেছেন, ওসমানী মেডিক্যালে লেখাপড়া করতে হলে ছাত্রলীগকে চাঁদা দিতে হয়। এটা এখন ওপেন সিক্রেট। গত রবিবার বিকেলে সিলেট মেট্রোপলিটন কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহেদুল করিমের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য দেন তিনি। সৌমেন দে আদালতকে জানান, আমরা তাওহীদুল ইসলামের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলাম। সে পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিল। বাকি দেড় লাখ টাকা কথামতো না দেয়ায় তাকে ডেকে এনে পেটানোর পর সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর তার মৃত্যু হয়। তাওহীদ হত্যা মামলার এজহারে আসামি হিসেবে কলেজ ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ থাকলেও সৌমেন দে তার দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৫ জনের নাম বলেছে। তারা হচ্ছেন— কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সৌমেন দে, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশফেকুজ্জামান আকন্দ রাফি, হাফিজুর রহমান, ফারহান আনজুম পাঠান, অন্তর দ্বীপ, শরিফুল ইসলাম, জহুর রায়হান রিপন, আবু সাহাল ফাহিম, জুবায়ের ইবনে খায়েজসহ আরো ৫ জন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এজাহারের বাইরে থাকার অপর পাঁচজনের নাম জানাতে অপারগতা জানিয়েছে। গত ৪ জুন কলেজের আবুসিনা ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে নিয়ে কলেজ ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন পাঁচ জুন নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন মাতব্বর বাদী হয়ে ছাত্রলীগ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ শাখার ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামী সৌমেন দে’কে গত শনিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।