‘নিজেকে প্রমাণ করবে সাকিব’

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২১:৫৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

সম্প্রতি সাকিব আল হাসানকে বাংলাদেশ বা বিশ্ব ক্রিকেট খুব একটা পাচ্ছে না। আঙুলের ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে পারেননি। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে, প্রায় পাঁচ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। কিন্তু সেখানেও ইনজুরির জন্য ফাইনালটা খেলতে পারলেন না। অবশেষে সব শঙ্কা কেটে গেছে। এখন ফিট সাকিবের বিশ্বকাপে জ্বলে ওঠার পালা। আর দলের কোচ স্টিভ রোডস বলেছেন, সাকিবের জন্য এই বিশ্বকাপ নিজেকে প্রমাণের বিশ্বকাপ।

আইপিএলের সময়ই আঙুলের ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছিলেন সাকিব। কিন্তু বিদেশিদের ভিড়ে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে তিনটার বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি তার। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে দলের ফাইনালে ওঠায় বড় ভূমিকা রাখেন সাকিব। ব্যাট হাতে দুটি ফিফটি করেন এবং খুবই কৃপণ বোলিং করেন। এরপর ফাইনাল মিস করলেও এই পারফরম্যান্সের কারণে আইসিসির র্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডারদের তালিকায় আবার নিজের এক নম্বর জায়গাটা ফিরে পেয়েছেন সাকিব। রশীদ খানের চেয়ে এখন পরিষ্কার ২০ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন।

স্টিভ রোডস বলছিলেন, সাকিব এখন খেলার জন্য পুরো সুস্থ, ‘সাকিব এখন ভালো আছে। শারীরিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছে। ওর আয়ারল্যান্ডে ছোট একটা সমস্যা ছিল। সেটা কাটিয়ে উঠেছে। আর এখন খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।’

কোচ দাবি করছেন, সাকিবকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি আসলেই এগিয়ে থাকা একজন খেলোয়াড়, ‘সে একটা দারুণ টুর্নামেন্ট কাটানোর জন্য মুখিয়ে আছে। আমি মনে করি, তার আসলে কিছু প্রমাণ করার আছে। সে নিজেও সম্ভবত এরকম মনে করে। সম্প্রতি মনে হচ্ছে, লোকেরা তাকে ভুলে যেতে বসেছে। কিন্তু সে আবার বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে ফিরে এসেছে। আমরা মনে করি, তাকে এখানেই মানায়। তবে যারা অন্যরকম মনে করে, তাদের কাছে নিজেকে সাকিবের এখন প্রমাণ করতে হবে।’

বাংলাদেশের আরেকজন ইনজুরিতে দুর্বল হয়ে থাকা খেলোয়াড় হলেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিং করতে পারছেন তিনি। কিন্তু কাঁধের একটা চোটের কারণে অফস্পিনটা করতে পারছেন না এই অলরাউন্ডার। কোচ রোডস স্বীকার করছেন, রিয়াদের এই বোলিং করতে না পারায় দলের ভারসাম্য একটু নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তিনি নিশ্চিত বিশ্বকাপের কোনো এক সময় বোলিং শুরু করতে পারবেন রিয়াদ।

রিয়াদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে কোচ বলছিলেন, ‘মাহমুদউল্লাহর কাঁধটা একটু আস্তে আস্তে ঠিক হচ্ছে। আমার মনে হয় না যে, সে শুরুর দিকের ম্যাচে বল করতে পারবে। তবে আমরা খুব আশাবাদী যে, সে ফিরে আসবে এবং বিশ্বকাপের প্রথম দিকেই কোনো এক সময়ে বোলিং শুরু করবে। এটা আমাদের ভারসাম্যকে একটু প্রভাবিত করছে। তবে ভালো ব্যাপার হলো, মাহমুদউল্লাহর এমনিতেই প্র্যাকটিসে খুব একটা বোলিং করতে হয় না।’

এবার বিশ্বকাপে সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা অন্যতম একটা অভিজ্ঞ দল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশকে। দলে পাঁচজন খেলোয়াড় আছেন, যারা ১৭৫ বা তার বেশি ওয়ানডে খেলেছেন। রোডস বলছিলেন, এই অভিজ্ঞতাই তার দলের সম্পদ, ‘লোকেরা বলে, বিশ্বকাপ জিততে গেলে আপনার অভিজ্ঞতা দরকার। আমি খুশি যে, আমার দলে অভিজ্ঞতার অনেক সম্পদ আছে। আমি তাদের কথা শুনি। কারণ, আপনি কেনো এই বিশাল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন না?’