স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন ‘আমি কঠিন কথা সবসময়ই বলি। অতীতেও বলেছি, এখনও বলছি, ভবিষ্যতেও বলবো। স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলা করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর গত পাঁচ মাসে দায়িত্ব পালন না করায় ১১ জন চিকিত্সককে চাকরিচ্যুত, ২৫ জনের বেতন স্থগিত ও ৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১৮ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’ গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
আগেরদিন রবিবার সংসদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজী বলেছিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুধু কঠিন কথা বলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয় না। গ্রামে ডাক্তার থাকে না, চিকিত্সার যন্ত্রপাতি কিছুই নেই। মূলত তার এই বক্তব্যের জবাব দিতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল ৩০০ বিধিতে এই বক্তব্য রাখেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বলে আসছি প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সংসদ সদস্যরা পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন। কোনো ডাক্তার হাসপাতালে থাকতে না চাইলে তারা আমাদের অবহিত করবেন, সহযোগিতা করবেন। আমি মনে করি সবাই সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর শাস্তিমূলক বদলি ছাড়া আর কোনও বদলি করা হয়নি। ৬৫০ ডাক্তার বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করছেন। বদলির জন্য অনেক তদবির আসে। আমি কারও কথায় কান দিইনি, দিবোও না। তদবিরে কোনো কাজ হবে না। নিয়োগ দেয়ার পর ডাক্তারদের তিন বছর জেলা-উপজেলায় থাকতে হবে। যারা তিন বছর গ্রামে থাকবেন, তাদের পরবর্তীতে ভালো জায়গায় পোস্টিং দেয়া হবে, পদোন্নতি দেয়া হবে। যারা গ্রামের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন তাদেরকে পর্যায়ক্রমে গাড়ি দেয়া হবে। প্রথমেই নারী ডাক্তারদের দিয়ে এই কাজ শুরু হবে। এজন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক যানবাহন দিতে চেয়েছে।
চিকিত্সক সঙ্কট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় ডাক্তার সঙ্কট রয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। তবে ৬ হাজার ৫২১ জন চিকিত্সককে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। পুলিশি তদন্ত শেষে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগ হলেই এক-দুই মাসের মধ্যে ডাক্তার সঙ্কট থাকবে না। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
নাসিম বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই ডাক্তাররা বাংলাদেশের ডাক্তারদের মতো এতো চাপ নিয়ে কাজ করেন না। আমাদের দেশের একজন ডাক্তারকে দিনে ১০০/২০০ রোগী দেখতে হয়। এজন্য তারা অনেক চাপের মধ্যে থাকেন। বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে। বিশ্বের কোথাও ডাক্তাররা শনি ও রবিবার রোগী দেখেন না। এমনকি রোগী মারা গেলেও না। অথচ আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তাররা শুক্র ও শনিবারেও রোগী দেখেন।
এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ আরো বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের উদ্দেশে নাসিম বলেন, বরাদ্দ বাড়িয়ে দিন। আমাকে একটু সাহায্য করুন। তাহলে দেখবেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি রোলমডেল হবে।
