ফুল, পাখি আর প্রজাপতির স্বর্গরাজ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ বিশ্ববিদ্যালয় জীববৈচিত্র্যের আধার। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে এ জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। এ চেতনাবোধ থেকেই প্রকৃতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষকে প্রকৃতি প্রেমী করে তুলতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্ম লাভ করে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ’ নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। বর্তমানে সংগঠনটির এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে সভাপতি রাশেদুর রহমান রাশিব ও সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া আহমেদ রিনি, অর্থসম্পাদক জিনিয়া সামসাদ অর্থী, প্রচার সম্পাদক ফরিদ আল সোহান, জয়শ্রী সন্ন্যাসী, মৌটুসী পাল, মুনিয়া ইসলাম মজুমদারসহ আরো অনেকে ক্যাম্পাসের সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের কার্যক্রম ত্বরিত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দুরন্ত ছুটে চলা এসব তরুণ-তরুণীরা ক্যাম্পাসে একটু অবসর পেলেই ফটোগ্রাফি, আড্ডা-গানের পাশাপাশি জটিল বিষয়াবলী ও সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জীববৈচিত্র্য, শিল্প-কারখানার দূষণ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালার আয়োজনে পাশাপাশি গত শীতে ‘মানবতার গান’ শিরোনামে শীতার্তদের জন্য শীতবস্ত্র উত্তোলন ও আর্থিক সাহায্য সংগ্রহের উদ্যোগ হাতে নেয় সংগঠনটি। যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের গ্রামে শিশুদের মাঝে ও পঞ্চগড়ে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। গত বর্ষা মৌসুমে এ সংগঠনটির উদ্যোগে ক্যাম্পাসে পাঁচ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। শুধুমাত্র গাছ লাগানোই না, গাছের পরিচর্যার জন্যও কর্মসূচি গ্রহণ করে সংগঠনটি। এছাড়া বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে আয়োজন করে সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে গত শনিবার ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মত ‘প্রকৃতি উত্সব’র আয়োজন করে পরিবেশবাদী এ সংগঠনটি। দিনব্যাপী এ ‘প্রকৃতি উত্সব’- এ ছিল শোভাযাত্রা, বন্যপ্রাণী বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও প্রকৃতি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, নেচার অলিম্পিয়াড, সুন্দরবনের উপর ডকুমেন্টরি প্রদর্শনী, সেমিনার, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ’র স্বপ্নদ্রষ্টা ও সংগঠনটির সভাপতি ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুর রহমান রাশিব বলেন, ‘আমরা প্রকৃতিরই অংশ। আমাদের প্রয়োজনেই সংরক্ষণ করতে হবে প্রকৃতিকে। আমরা প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকতে চাই, বেড়ে উঠতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসবে।’
