পুলিশ ফুটবল দলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২১:৫৯

খেলোয়াড় সাসপেন্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলার মাঠে মারামারি করার কারণে বড় ধরনের শাস্তি পেতে হচ্ছে পুলিশ ফুটবল ক্লাবকে। দলকে আর্থিক জরিমানাসহ একাধিক খেলোয়াড় ফিজিওকে শাস্তি দেয়া। সেই জরিমানার অর্থ জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। বাফুফের ডিসিপ্লিনারী অ্যাকশান কমিটি গতকাল বৈঠক করে পুলিশের শাস্তির কথা জানিয়েছে।

গত ২৪ মে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের শেষ খেলায় পুলিশ এবং ফেনীর সকার ক্লাব মাঠে নেমেছিল। পুলিশ আগেই প্রিমিয়ার লিগে উঠা নিশ্চিত করে ফেলেছিল। চ্যাম্পিয়নও হয়ে গিয়েছিল। সেদিন নিয়মরক্ষার ম্যাচটা শেষ হলে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার গ্রহণ করার পরই ঘটে যায় অপ্রীতিকর ঘটনা। সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশের কনস্টেবল শামীম মাঠে ঢুকে মারামারিতে জড়িয়ে যায়। সে বাফুফের লোকজনের সঙ্গে মারপিট করে।

বাফুফের অভিযোগ খেলা চলাকালীন মাঠের ভেতরেও ঢুকতে চাইলে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়। শামীম তাদের পুলিশ দলের সঙ্গে ছবি তুলতে চান। অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া খেলার মাঠে প্রবেশ করার নিয়ম নেই। কিন্তু শামীম তখন থামলেও পুরস্কার বিতরণের পর মাঠে ঢুকে বাঁধা দেয়া ব্যক্তির উপর মারামারিতে জড়িয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশের অন্যান্য যেসব খেলোয়াড় জড়িয়ে পড়েছিল তাদেরও শাস্তি দিয়েছে বাফুফে। পুলিশ দলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, শামীমকে আজীবন স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

দলের ফুটবলার আমিরুল ইসলাম ও তাকের আজিজ দুই ম্যাচ সাসপেন্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, খেলোয়াড় আজমি ওমর ও সারোয়ার হোসেন জনিকে ৯ ম্যাচ খেলতে পারবে না, ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। দলের ফিজিও সান্তুনু মল্লিক ৯ ম্যাচ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা। সকল আর্থিক জরিমানা এক মাসের মধ্যে দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ফুটবল দলটা পুরো লিগ জুড়ে কোনো সমালোচনার স্বীকার হয়নি। রেফারির নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলেও সব কিছু শ্রাদ্ধায় মাথা নত করেই মেনে নিয়েছিল। সহকারী ম্যানেজার বিশেষ পুলিশ সুপার নুসরাত এদীব লুনা সব সময় তার দলকে শৃংখলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কখনো বিশৃংখলা করার কথা শোনা যায়নি। নানা চড়াই উত্রাই পেরিয়ে লম্বা লিগটা দারুণভাবে শেষ করে রঙ্গিন উত্সবের অপেক্ষায় ছিল পুলিশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একজন কনস্টেবলের কারণে এতো বড় শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।