ফুটবল খেলা আমাদের ভীষণ প্রিয়

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ১৯:৪৩
ফুটবল খেলা আমার ভীষণ প্রিয়। আমাদের স্কুলেও একটি ক্ষুদে ফুটবল দল আছে। ব্রাজিলে এ বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা খেলা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। খেলা দেখার সময়টা আমাদের অনুকূলে নয়। অধিকাংশ খেলা রাত ২টার পরে। কোন কোন খেলা ভোর ৪টায়। নয় দশটি খেলা হবে রাত ১০টায়। এ সময়টা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। আমার প্রিয় দল ব্রাজিল, আর সেই ব্রাজিলেই খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের খেলাও দেখি। আমি কচি-কাঁচার আসরের সদস্য। আসর নিয়মিত পড়ি। আমার বেশ কিছু লেখাও আসরে ছাপা হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে জাদুকর সামাদের ফুটবল জীবন পড়ে ভীষণ খুশি হয়েছি এবং অনেক কিছু জেনেছি। অর্ণিম সারওয়াহ চতুর্থ শ্রেণি বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল সময়টা ২০০৬ সাল। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হতে আর মাত্র ৩, ৪ দিন বাকি। আমি তখন সবে স্কুলে ভর্তি হলাম। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেখতে পেলাম রাস্তার ধারে অনেকগুলো পতাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আমি ভাবতে লাগলাম যে, এগুলো-তো বাংলাদেশের পতাকা নয়। তাহলে এগুলো কিসের পতাকা। এ নিয়ে আর ভাবলাম না। ৪ দিন পর যখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হলো, তখন এক সন্ধ্যায় আমি দেখতে পেলাম যে বাবা তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাসায় আসল। কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। চা, বিস্কুট, চানাচুর নিয়ে তারা সবাই বিছানায় বসে টিভি খুলল। টিভিতে তারা ফুটবল খেলা দেখছিল। কিছুক্ষণ পর দেখলাম তারা সবাই খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল। তখনও কিছুই বুঝলাম না। বাবাকে বললাম তোমরা হাততালি দিচ্ছো কেন। বাবা বলল, ব্রাজিল গোল দিয়েছে। বাবাকে বললাম, ‘বাবা ব্রাজিল কি’? বাবা বলল, ব্রাজিল একটি দেশের নাম। ফুটবলের রাজা পেলের দেশ ব্রাজিল। তারা নাকি অনেক ভালো ফুটবল খেলে। ২-৩ দিন যাবার পর আমিও ফুটবল খেলা দেখতে শুরু করলাম। খেলার নিয়ম-কানুন বোঝার পর এ খেলাকে আমি ভালোবাসতে শুরু করলাম। তারপর আর সবার মত আমিও একটি দলকে সাপোর্ট করতে লাগলাম। সেই দলের নাম হলো ‘ব্রাজিল’। এ সব ঘটনার পর আমি বুঝতে পারলাম যে, ঐ দিন রাস্তার ধারে যে সব পতাকাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল সেগুলো হলো ব্রাজিল ও আর্জেনটিনার পতাকা। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য যে, ফুটবল খেলা আমি কখনই খেলতে পারিনি। কারণ, খেলার জন্য উপযুক্ত মাঠ ও সঙ্গী আমি আজও পাইনি। তবে আসছে বিশ্বকাপ আমি জমিয়ে দেখবো কারণ ৪ বছরের অপেক্ষা শেষ হবে। অর্ঘ্য সময় বর্ম্মণ ষষ্ঠ শ্রেণি, মাসকট হাই স্কুল, ঢাকা আমার প্রিয় খেলা ক্রিকেট ও ফুটবল দুটোই। তবে এ দুটোর মধ্যে ফুটবলের বিশ্বকাপ বেশি উপভোগ করি। ফুটবলের বিশ্বকাপ মানে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন। ইংরেজিতে যাকে বলে— ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’। বিশ্বকাপে আমার ফেভারিট দল জার্মানি। আমি বরাবরই জার্মানির ভক্ত। স্কুলের বন্ধুরা বলে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কেন নয়? আমি বন্ধুদেরকে বলি— আমি খেলার শক্তিমত্তায় বিশ্বাসী। জার্মানি পৃথিবীর এক নম্বর শক্তিশালী ফুটবলের দেশ। তাছাড়া, আমার দাদা সেই বেকেন বাওয়ারের যুগ থেকে জার্মানির ভক্ত। আমার বাবাও ক্লিন্সম্যানের খেলায় মুগ্ধ হয়ে জার্মানির ভক্ত হয়েছেন। আর আমি ভক্ত হয়েছি মাইকেল বালাক, ক্লোসা, লাম, মুলার, সোয়েন্সতিগার, ওজিল, খাদিরা প্রমুখের খেলা দেখে। আমার প্রিয় দল জার্মানি আগে তিনবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমার বিশ্বাস এবারও চ্যাম্পিয়ন হবে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলে আমি সবচে’ বেশি খুশি হবো। আর একটি বিষয় ফুটবলের প্রসঙ্গ উঠলেই বাবা আমাকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিম, ফুটবল খেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, সেই ঐহিহাসিক ঘটনা খুলে বলেন। সাজিদ সামী মল্লিক অষ্টম শ্রেণি ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল, ঢাকা। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হচ্ছে ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে। ফুটবলের রাজা পেলে’র দেশ মানেই ফুটবলের দেশ, বিশ্বকাপের দেশ। ১২ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৪। এবারের খেলায় অংশ গ্রহণ করেছে বিশ্বের ৩২টি দেশ। আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রীড়ামোদীদের প্রিয় দল হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এ ছাড়াও ইতালি, জাপান, স্পেন, গ্রিস এবং অন্যান্য দলেরও সমর্থক আছে, খুবই কম। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেই হাটবাজারে এখন শোনা যায় নানা রকম গল্প কথা। ছোট বড় সবাই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে ফুটবল খেলা। আমার বিশ্বাস এ বছরও ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতবে। কে জিতবে কে হারবে এই নিয়ে আমার বন্ধু অভির সাথে আমার তুমুল বাকযুদ্ধ চলে। অভির প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। জেলা শহর মাদারীপুর থেকে অভি কিনেছে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি, আর আমি কিনেছি ব্রাজিল দলের জার্সি ও পতাকা। পরে অবশ্য অভিও আর্জেন্টিনা দলের একটি পতাকা সংগ্রহ করেছে। আমরা ক’জন মিলে আমাদের ঘুনসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদে বাঁশের সাথে বেঁধে উড়িয়েছি যার যার প্রিয় দলের পতাকা। নানা রঙের পতাকায় সুশোভিত আমাদের ছোট্ট গ্রামখানি দেখতে এখন দারুণ চমত্কার। শহরের মতো গ্রামেও এখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার আনন্দের ঝড় বইছে। তুষার আহমেদ পাপ্পু অষ্টম শ্রেণি, ঘুনসী উচ্চ বিদ্যালয়, শিরখাড়া, মাদারীপুর এবারে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করেছে তিন বার বিশ্বজয়ী ব্রাজিল। ব্রাজিল ও ফুটবল যেন একে অপরের সম্পূরক। ফুটবল নিয়ে দুটি কথা বলতে গেলে ব্রাজিলের কথা না বললেই নয়। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের নাম নিলে চলে আসে পেলে, জিকো, রোনাল্ডো, রোনালদিনহো, কাকা, দিদা, নেইমার, কাফু, রিভালদো, আদ্রিয়ানো প্রমুখের নাম। এরা সকলেই ব্রাজিলের সন্তান। এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে ব্রাজিল। ব্রাজিলকে ফুটবলের আঁতুর ঘরের সাথে তুলনা করা যায় যদিও এর উত্পত্তি মূলত ইংল্যান্ডে। বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগটি ব্রাজিলের যথাযর্থ প্রাপ্য ছিল। ব্রাজিলের গুণগান সহজে শেষ হবার নয়, আমার ছোটভাই সালমান মেহেদী তিতাস এবং আমি দুজনেই আর্জেন্টিনা দলের অন্ধভক্ত। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করে এবং চ্যাম্পিয়ন হয়। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ী হয় আর্জেন্টিনা। তবে কাপ জয়ের সংখ্যার চেয়ে এর দুর্ধর্ষ খেলোয়াড়দের আশ্চর্য জাদুকরি কৌশল দাগ কাটে ভক্তদের মনে। ম্যারাডোনা, বাতিস্তুতা, ক্রেসপো, সাভিওলা, মেসি, আগুয়েরো, হিগুয়ানের মতো সুদক্ষ খেলোয়াড়দের পায়ে পায়ে ক্লান্তিহীনভাবে এগিয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবল। এবারো সেই জাদুকর খেলা দেখার আনন্দ নিয়ে আমরা আর্জেন্টিনা প্রেমীরা চূরান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে অপেক্ষায় আছি। মধুস্বিনী মোহনা চতুর্থ বর্ষ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা