বাবার কাছে ছেলের চিঠি

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ১৯:৪৫
প্রিয় বাবা, কেমন আছ? আশা করি ভালো। আমার সালাম নিও। বাবা, ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে। খুব ইচ্ছে হয় তোমার কাছে দৌড়ে ছুটে যেতে। ছোটবেলার ছোটন হয়ে তোমার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তে। রাতে জেগে গেলে তুমি পায়ে আমাকে শুইয়ে রেখে দোলাতে। তোমার ঘুমপাড়ানি গান শুনতে শুনতে আমি ঘুমিয়ে যেতাম আর তুমিও দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে। খেতে বসলে সব সময় আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে। পরীক্ষার টেনশনে যখন আমি ভিতু হয়ে যেতাম, তুমি আমাকে সাহস দিতে। কখনো আবার আমার ওপর রাগ হতে। তবুও পরে আমার সাথে আবার মিলে যেতে! গরমের দিনে বিদ্যুত্ চলে গেলে দিন হোক বা রাত, তুমি হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে। আমার জন্য তো তুমি কখনো ক্লান্তি বোধ করতে না। কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে আমি তোমার কোলে চড়ে বাইরে ঘুরতে যেতাম। তুমি আমার জন্য এত কষ্ট করলে, কিন্তু আমি? নিজের সুখের কথা, স্বার্থের কথা ভেবে আমি তোমায় ছেড়ে চলে গেলাম বিদেশে, সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারে। এরপর নানা ব্যস্ততায় আর তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। তবুও বাবা তুমি প্রতি মাসে ২টি করে চিঠি পাঠিয়েছ, তোমার ভালোবাসার দরজা খুলে রেখেছ আমার জন্য। আমার জন্য দিন রাত কত পরিশ্রম করেছ, তা তো আমি ভাবিনি। এখন যখন আমার সন্তান আমার থেকে দূরে চলে গেছে এখন আমি তোমার কষ্ট বুঝতে পারছি। আমার সন্তানের বন্ধুদের জন্য, কম্পিউটার বা অন্য সব কিছুর জন্য সময় থাকলেও আমার সাথে বসে কথা বলার সময় নেই। আসলে এখন আমি তোমার মনের অবস্থা অনুভব করছি। তোমার এত অবদানের পরও তোমাকে জেনে বা অজান্তে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমার জন্য তোমার অনেক চোখের পানি ঝরেছে, গায়ের রক্ত পানি হয়েছে, মাথার ঘাম পায়ে পড়েছে। সে সবের মূল্য দেবার যোগ্যতা বা সাধ্য আমার নেই। ক্ষমা করো বাবা আমাকে, অনেক ভুল করেছি। মনের দরজা খুলে আমাকে জড়িয়ে নাও। আমি আবার তোমার ছোট্ট ছোটন হয়ে তোমার আঙুল ধরে হাঁটতে চাই। আমার এখন আর পড়ার ভয় থাকবে না, জানি তুমি পাশে আছো। আমি আসছি বাবা, ফিরে আসছি তোমার কাছে। এ্যাম্বাসিতে ভিসার জন্য এ্যাপ্লাই করেছি। জলদি চলে আসবো বাবা। দোয়া করো। সুমনা আক্তার মীম, সদস্য নম্বর :১২৭৭