সম্ভাবনার ক্ষেত্র অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২১:২১
গত এক দশক সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই লেগেছে অটোমেশনের ছোঁয়া। ফলে এই সময়ের মধ্যে প্রচলিত গঁত্বাধা বড় বড় লেজার ফাইলের জায়গায় এখন হাজির হয়েছে কম্পিউটার। হিসাব-নিকাশের সুবিধার্থে এখন কাগজ-কলমের স্থান দখল করে নিয়েছে কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়্যার। অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও এখন সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানেই অ্যাকাউন্টিং বিভাগের কাজটি অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থের অভাবেই মূলত অ্যাকাউন্টিং বিভাগ তেমন একটা প্রতিষ্ঠিত নয়। কেবল আমাদের দেশের এসএমই প্রতিষ্ঠানই নয়, বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানেও আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকাউন্টিং বিভাগ রাখা হয় না। তারা মূলত তাদের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের কাজটি করিয়ে নেয় বাইরে থেকেই। চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগ করে এবং অনলাইনেও করিয়ে নেওয়া হয় অ্যাকাউন্টিংয়ের কাজ। বাইরে থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ের কাজগুলো করিয়ে নেওয়াই হলো অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং। আমাদের দেশের জন্য এটি এখন সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের দেশের তরুণরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অ্যাকাউন্টিংয়ের বিভিন্ন সফটওয়্যার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্টিংয়ের কাজ করে দেওয়ার সাথে সাথে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজও করে দেওয়া যায়। দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে অ্যাকাউন্টিং শিক্ষায় সফটওয়্যারকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তত্ত্বীয় শিক্ষায় পারদর্শী হলেও সফটওয়্যারের কাজ তারা জানে না। এতে করে বাস্তব কাজের ক্ষেত্রগুলোতে তারা সমস্যার মুখোমুখি হয়। অথচ শিক্ষাজীবনেই যদি তাদের অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার শেখানো হতো, তাহলে তারা বৈশ্বিক প্রেক্ষিতেই দক্ষ জনবল হয়ে গড়ে উঠতে পারত। আমাদের দেশের এই সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখেই এসটিএম ভিশন ইনফোটেক অ্যাকাউন্টিংয়ের বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করে চলেছে। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগং, স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, বিডিজবস ট্রেনিং উল্লেখযোগ্য। পাইলট আকারে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সাথে সাথে অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের প্রশিক্ষণ চালু করতে আগ্রহী এসটিএম ভিশন ইনফোটেক। প্রতিষ্ঠানটির সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার এনামুল হক সুজন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানেই হিসাবরক্ষক না থাকায় ব্যবসায়ের প্রকৃত সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়। আমরা যদি অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে দক্ষ প্রচুর পরিমাণে জনবল তৈরি করতে পারি, তারা সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ বিভাগেই ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা আপাতত ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাকাউন্টিংয়ে টালি (Tally) এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য স্যাপ (SAP) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। এসব সফটওয়্যারে যারা দক্ষ হতে পারবে, তারা বিশ্ববাজারের জন্যই দক্ষ হয়ে উঠবে। ফলে অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাবে।’  তরিকুর রহমান সজীব