বরিশালে অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মানুষের বসবাস

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২১:৩১
যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নগরীর প্রায় অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অনেক মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে এক ডজনেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে চিহ্নিত করা হলেও গত চার বছরেও তা ভাঙ্গতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন। ২০১০ সালে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) কর্তৃপক্ষ। নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে বর্ষাকাল। এতে ঝুঁকি বাড়ছে এসব ভবনের বাসিন্দাদের। যে কোন সময় অতিবৃষ্টিতে ভবন ধসে পড়া ছাড়াও মৃদু ভূমিকম্প হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীতে দেড়শ বছরের পুরনো ভবন রয়েছে ১৫টিরও বেশি। এসব ভবনের মধ্যে বগুড়া রোডের মহালয় নিবাস, ওবায়েদ মঞ্জিল, সদর রোডের ব্রাহ্ম সমাজের বাড়ী, শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাস, বিএম কলেজের ছাত্রী হোস্টেল দেবেন্দ্র ভবন, মহিলা কলেজের গোড়াচাঁদ রোডস্থ ছাত্রী নিবাসের (কবি সুফিয়া কামাল হল) মূল ভবন, জেলেবাড়ির পোল সংলগ্ন আইনুদ্দিন হাওলাদারের বাড়ি ও বটতলা হোমিওপ্যাথিক কলেজ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবন। ভবনগুলোতে বসবাস করছে বিভিন্ন পরিবার। এসব ভবনে বসবাসকারী ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নগরীর সদর রোডের শহীদ মিনারের উল্টো পাশে ব্রাহ্ম সমাজের বাড়িটির বয়স দেড়শ বছর। সেখানে একটি সংগীত বিদ্যালয় চলছে। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এ ভবনের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা। বটতলা হোমিওপ্যাথিক কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে জরাজীর্ণ একটি ভবনে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার। ভবন মালিকের হদিস না মিললেও যারা বংশ পরম্পরায় ঐ ভবনে বাস করছেন তারা জানান, তারা শত বছর যাবত্ ভবনের দখলে আছেন। যে কোন সময় এ ভবনটি ধসে পড়তে পারে। প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নিম্নবিত্ত কয়েকটি পরিবার ঐ ভবন ছাড়ছেন না। একইভাবে কাউনিয়া প্রধান সড়কের এ, কাদের চৌধুরী স্কুলের বিপরীত পার্শ্বের বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে একাধিক পরিবার। এসব ভবনের অধিকাংশই মালিকানা নিয়ে বিরোধ, অর্পিত সম্পত্তিতে গড়ে উঠা কিংবা বহু বছর আগে ফেলে রেখে দেশান্তরিত হওয়া মানুষের বাড়িঘর। গোড়াচাঁদ দাস রোডের ঝুঁকিপূর্ণ যে ভবনে মহিলা কলেজের ছাত্রীরা বসবাস করছে সেই ভবনটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি করা হয়েছিলো বলে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালের জুলাই মাসে নগর ভবনের পর্যবেক্ষক দল নগরীর অর্ধ-শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অনুসন্ধান চালিয়ে ১২টিকে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা ও বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী চিহ্নিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর মধ্যে নগরীর বগুড়া রোডের মহালয় নিবাস, কাউনিয়া সিরাজ মহল, ঈশ্বর বসু রোডের সৈয়দ মঞ্জিল, হাসাপাতাদল রোডের মান্নান মৃধার বাড়ি, কালুশাহ সড়কে অবস্থিত জালাল আহমেদ ভবন ও নবগ্রাম রোডের হাতেম আলী কলেজের আলমগীর ছাত্রাবাসের পুরাতন ভবন, মেডিক্যাল কলেজ লেনের ক্ষণিকা ও বিএম কলেজের সুরেন্দ্র ভবন। চিহ্নিত ভবনগুলোর মধ্যে শুধু সদর রোডের সমবায় ভবনটি সমিতির পক্ষ থেকেই অপসারণ করা হয়েছে। বাকি ভবনগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সুরেন্দ্র ভবন থেকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। চার বছরেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কেন ভাঙ্গা হয়নি এবং অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কেন চিহ্নিত করা হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে নগর ভবন কর্তৃপক্ষ ইত্তেফাককে জানান, যে ১২টি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে তা বিশ্লেষণ করা হয়নি। এ নিয়ে অনেক আপত্তি ও আইনী জটিলতা থাকায় বিষয়টি ধামা-চাপা পড়ে গেছে। বিশেষ করে শত বর্ষ পুরনো এ বাড়িগুলোর অধিকাংশই অর্পিত সম্পত্তির উপর নির্মিত হওয়ায় আইনী জটিলতায় নগর ভবন কর্তৃপক্ষ এগুতে পারেনি। সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার ১৪ বছর পরও পৃথক নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়ায় অপরকল্পিতভাবে নতুন নতুন আরো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তৈরি হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়নে ঝুঁকি বাড়ছে নগরবাসীর। ভবন ভাঙ্গার ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম জানান, পুরনো ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থান, নির্মাণ শৈলী বিচার-বিশ্লেষণ করে পুনরায় দেখা হচ্ছে।