চলতি অধিবেশনেই প্রতিরক্ষা বাজেটের বিস্তারিত জানান

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২২:৫৫
চলতি বাজেট অধিবেশনেই প্রতিরক্ষা বাজেটের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ আহবান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে গত সোমবার জাতীয় সংসদে দেয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকেও স্বাগত জানিয়েছে টিআইবি। বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতিরক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় টিআইবি অনেকদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে আমরা আশান্বিত। তবে বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ঝুলিয়ে না রেখে চলতি বাজেট অধিবেশনেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ব্যাপারে জনসমর্থন বৃদ্ধি পাবে। জনস্বার্থেই যেহেতু জনগণের অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়, সেহেতু মুক্ত আলোচনার স্বার্থে এবং অধিকতর জনআস্থার জন্য অনতিবিলম্বে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রতিরক্ষা বাজেট এবং তার ব্যয়ের উপর নিয়মিত পরিবীক্ষণের সংস্কৃতি চালু করতে হবে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্রয়ে দুর্নীতির সুযোগ কমানোর জন্য পর্যাপ্ত সংসদীয় তদারকি নিশ্চিতকরণে প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আইনের সংস্কারের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ২০১২ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতের দুর্নীতি বিরোধী সূচকের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, প্রতিরক্ষা বাজেট বিষয়ক ৭টি সূচকেই বাংলাদেশের স্কোর হতাশাজনক ছিল। বিশেষত কিসের ভিত্তিতে সমরাস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনা গৃহিত হয়ে থাকে সে ব্যাপারে জনগণ অবহিত তো নয়ই, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও এ ব্যাপারে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার নামে প্রতিরক্ষা খাতের কর্মকাণ্ডে গোপনীয়তার সংস্কৃতি লালিত হলে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত আইনে দুর্নীতি প্রতিরোধক ধারা সংযোজনসহ তথ্য উন্মুক্তকরণের সুস্পষ্ট বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠা করা জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে সময়ের দাবি। ড. জামান আরো বলেন, পৃথিবী জুড়ে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ‘উন্মুক্ত সরকার অংশীদারিত্ব’ উদ্যোগে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করা সম্ভব যদি বাংলাদেশ অচিরেই প্রতিরক্ষা বাজেট এবং ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়।