ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের জের ধরে গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করলেও বিকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও চার কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। এর আগে দুই ছাত্র ও এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সকাল থেকে ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গতকাল মঙ্গলবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দুই ছাত্র উচ্ছ্বাস ও মিলনকে সোমবার রাতে তল্লাশি করার সময় পুলিশ দুই জনকে লাঞ্ছিত করে। এখবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শত শত ছাত্র একত্রিত হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গল্লামারী পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক সৈকত মণ্ডল এগিয়ে যান। এসময় তিনি তার পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ তাকে মারধর করে। প্রতিবাদে শিক্ষকরা গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ দায়ী পুলিশ সদস্যদের অপসারণের দাবি জানান। ছাত্ররা ক্লাস বর্জন করে সকাল থেকে ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে এসি রবিউল ইসলামসহ ও চার কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয়।
