করাচি বিমানবন্দরের কাছে আবারো জঙ্গি হামলা

আপডেট : ১০ জুন ২০১৪, ২২:৫৭
পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরের কাছে ফের হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। গতকাল মঙ্গলবার কয়েকজন বন্দুকধারী দেশটির বৃহত্তম এবং ব্যস্ত বিমানবন্দরের বাইরের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময় করে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীটি আরো হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। গত দুদিনে এটি দ্বিতীয়বারের মতো হামলা। গত সোমবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ও ডন’র। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্সের (এএসএফ) মুখপাত্র কর্নেল তাহির আলী সাংবাদিকদের বলেন, এটি তেমন বড় কোনো হামলা নয়। দু’জন লোক এএসএফ চেকপোস্টের দিকে এগিয়ে আসে এবং গুলি করতে শুরু করে। তিনি বলেন, গুলি করার পর তারা পালিয়ে গেছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং আধা-সামরিক রেঞ্জার ও সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য নিহত হয়নি। কর্ণেল তাহির আলী বলেন, বিমানবন্দর নিরাপদ রয়েছে এবং দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ করে দেয়ার পর ফ্লাইট ওঠানামা আবার শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিটি একটি এএসএফ ক্যাম্পের প্রবেশ পথে অবস্থিত। যা বিমানবন্দরের মূল চত্বর থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল থেকে এর দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। এদিকে সোমবার বিমানবন্দরে তালেবান হামলার জবাবে পাকিস্তান জঙ্গি অধ্যুষিত উপজাতীয় এলাকায় বিমান হামলা চালিযে ১৫ জনকে হত্য করেছে। রবিবার রাতে দশ তালেবান যোদ্ধা মেশিনগান, গ্রেনেড ও রকেট লঞ্চার সজ্জিত হয়ে করাচি বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এদের অনেকের পরনে সামরিক বাহিনীর পোশাক ছিল। সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভূমিতে থাকা বিমানের ক্ষতি সাধন। কিন্তু দুই কি তিনটি বিমানের কেবল সামান্য ক্ষতি হয়েছে। জঙ্গিরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরটির দখল নিয়ে তাণ্ডব চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল বলে ধারণা করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। হামলাকারী প্রশিক্ষিত তালেবান জঙ্গিদের ব্যাগে থাকা খাবার ও প্রচুর বুলেটসহ অন্যান্য রণসজ্জা দেখে এমনটি ধারণা করছেন তারা। জঙ্গিরা বিমান ছিনতাইয়েরও পরিকল্পনা করেছিল। আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় বহু তালেবান সদস্য হতাহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে রাতের ওই হামলা চালানো হয় বলে তালেবানদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। বিমান বন্দর থেকে একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তালেবানের মুখপাত্র শাহিদু্ল্লা শাহিদ বলেন, ওই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সরকারকে অচল করা। এছাড়া একটি বিমান ছিনতাই ও স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনাও ছিল। আমরা কী করতে পারি এটা হলো তার একটা নমুনা। ভবিষ্যতে এরকম আরো হামলা হবে। সরকারকে আরো খারাপ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।