ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মসুল দখল করে নিয়েছে জঙ্গিরা। এ সময় সেনা সদস্যরা তাদের উর্দি খুলে নিরাপত্তা চৌকিগুলো থেকে পালিয়ে যান। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহবান জানিয়েছেন। শহরের দখলকে কেন্দ্র করে জঙ্গি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপি’র।
নিনেভা প্রদেশের রাজধানী মসুল বাগদাদের সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এখানে সুন্নি মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। নগরীটি জঙ্গিদের একটি শক্ত ঘাঁটি। সোমবার রাত থেকে শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে জঙ্গিরা। চলতি বছর বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলের ফালুজার পর মসুল নগরীতে সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, , মসুল নগরী সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে এবং জঙ্গিরা এখন এটি নিয়ন্ত্রণ করছে। আর সৈন্যরা তাদের উর্দি ফেলে পালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারীরা সুন্নি মুসলিম। তারা লাউডস্পীকারে ঘোষণা দেয়, তারা মসুল মুক্ত করতে এসেছে এবং তাদের ওপর যারা হামলা করবে তাদের বিরুদ্ধেই শুধু তারা যুদ্ধ করবে। প্রধানমন্ত্রী নূরী মালিকি গতকাল পার্লামেন্টে জঙ্গিদের শহরটি নিয়ন্ত্রনে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির আহবান জানিয়েছেন।
নিনেভা প্রদেশে সামরিক কমান্ডের এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, জিহাদিস্ট ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লিভ্যান্ট (আইএসআইএল)’র শতশত জঙ্গির সঙ্গে সোমবার বিকেলে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর সেনা সদস্যরা নগরী ছাড়তে শুরু করে। জঙ্গিরা এখন নগরী নিয়ন্ত্রণ করছে। জঙ্গিরা নিনেভা, আনবার, দিয়ালা, সালেহেদ্দিন ও বাগদাদ প্রদেশে বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। এ সময় তারা বহু লোককে হত্যা করেছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে সরকার ফালুজা নগরীর নিয়ন্ত্রণ হারায়।
