রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ ঘিরে সুন্দরবনে হরিণ শিকারীরা বেপরোয়া

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২২:৩০

৮০০ টাকা কেজি রাজধানীতেও মাংস সরবরাহ!

পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

ঈদকে সামনে রেখে সুন্দরবনে হরিণ শিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটির সুযোগে যা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি পৃথক ঘটনায় সুন্দরবন থেকে পাঁচ মণ হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথা উদ্ধার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের জন্য বরগুনার পাথরঘাটার পদ্মা, চর লাঠিমারা, বাদুড়তলা, রুইতা, চরদুয়ানী, জ্ঞানপাড়া, কাঁঠালতলী, বাগেরহাটের শরণখোলার সোনাতলা, পানিরঘাট, মোংলার চাঁদপাই ও খুলনার কয়রা এলাকায় কয়েকটি শক্তিশালী শিকারী চক্র সক্রিয়। চক্রের শিকারীরা কখনো গোপনে, কখনো জেলে বেশে মাছ ধরার পাস নিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরে। ধৃত হরিণ জ্যান্ত বা জবাই করে মাংস বস্তায় ভরে বরফচাপা দিয়ে রাতের আঁধারে বন থেকে ফিরে আসে। পরে গোপনে ৭/৮শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। ক্রেতারা শিকারীদের আগে থেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং দিয়ে রাখে। এ চক্রটি রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত এ মাংস সরবরাহ করে থাকে।

সারা বছর কমবেশি হরিণ শিকার করা হলেও ঈদের সময় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ সময় হরিণের মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, হরিণ শিকারের বিষয়টি বনবিভাগের অনেক টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা জেনেও না জানার ভান করে থাকেন। তবে শিকারীদের পরিচয় স্থানীয়দের প্রায় সবাই জানেন। শরণখোলার পানিরঘাট এলাকার শিকারী তানজের বয়াতীর নাম মানুষের মুখে মুখে। এরকম আরেকটি নাম শোনা যায় পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের ইউসুফের। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে বনরক্ষীরা পাথরঘাটার চরলাঠিমারা বনফুল আবাসন এলাকার একটি খাল থেকে হরিণধরা ফাঁদসহ একটি ইঞ্জিন চালিত বোট জব্দ করে। ওই বোট থেকে পাঁচ মণ হরিণের মাংস, দুটি হরিণের চামড়া ও মাথা এবং ২ বস্তা হরিণধরা নাইলনের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। জব্দ ইঞ্জিন চালিত বোটটি ওই এলাকার আ. রহমান শিকদারের বলে বন বিভাগের চরলাঠিমারা বিটের কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান নিশ্চিত করেছেন। অপর ঘটনায়, গত ১২ মে আন্ধারমানিক এলাকায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জবাইকৃত হরিণের মাথা, চামড়া ও হরিণধরা নাইলনের ফাঁদ উদ্ধার করে। এ সময় শিকারীরা পালিয়ে যায়। এছাড়া সম্প্রতি সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী এলাকা থেকে ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ বনরক্ষীরা এক শিকারীকে আটক করে বলে চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম মল্লিক জানান।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ জয়নাল আবেদীন বলেন, সুন্দরবনে আগের মতো চোরা শিকারীদের তত্পরতা নেই। তারপরও হরিণ শিকার বন্ধে বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি রাখছেন।