মডেল—তিনি পুরুষই হোন, আর নারী; অথবা হোন বিখ্যাত কেউ; তার পোশাক কিংবা অলঙ্কারের ডিজাইন নির্ভর করে ফ্যাশন ডিজাইনারের হাতের ছোঁয়ার ওপর। আবার কোন অনুষ্ঠানে কেমন পোশাক পড়তে হবে, তার সাথে মানানসই হবে কোন জুতা বা অ্যাকসেসরিজ—এসব বিষয়েও সঠিক সিদ্ধান্তটি দিতে পারেন একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। একজন ডিজাইনার হতে এমন অনেক যোগ্যতা বা গুণ ধারণ করতে হবে।
আধুনিক এই সময়ে তৈরি হচ্ছে নতুন সৃষ্টিশীল পেশা। এমনই একটি পেশার নাম ফ্যাশন ডিজাইন। এখন মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সৌন্দর্য সচেতন। তাদের এই চাহিদা পূরণেই কাজ করে যাচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইন। আর এর মূলেই রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনাররা। তাই বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পোশাক সম্পর্কে যেমন রয়েছে সচেতনতা, তেমন ফ্যাশন ডিজাইনে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।
ভর্তির যোগ্যতা
আমাদের দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএফটি) ফ্যাশন ডিজাইনে বিএসসি অনার্স ইন ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি, নিটওয়্যার ম্যানুফেকচার অ্যান্ড টেকনোলজি, টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, অ্যাপারেল টেক্সটাইল প্রভৃতি কোর্স চালু রেখেছে। এ ছাড়াও ফ্যাশন ডিজাইন এবং মার্চেন্ডডাইজিংয়ে ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে এখানে। এই কোর্সগুলোতে ভর্তির জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
ডিজাইনারের কাজ
প্রতিযোগিতার বাজারে একজন ডিজাইনারকে অনেক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করতে হয়। যেমন—এবারের ঈদে অথবা বৈশাখের পোশাকের থিম কেমন হবে, সেটা সম্পর্কে জানতে হবে। আবার তরুণদের চাহিদার পোশাক কেমন সে সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে।
কাজের ক্ষেত্র
দিন দিন ফ্যাশন ডিজাইনারের কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ রয়েছে গার্মেন্ট, বায়িং হাউজ, বুটিক হাউজ, ফ্যাশন হাউজসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া ফ্যাশন ডিজাইন এক্সিকিউটিভ, কনসালট্যান্ট, প্রোডাক্ট ডেভেলপার, এক্সপোর্টার, ইম্পোর্টার হিসেবেও কাজের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রেক্ষিতে বললে ফ্যাশন ডিজাইনারদের ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের গার্মেন্ট শিল্পেও দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে, যা ফ্যাশন ডিজাইনে কোর্স করা ব্যক্তিরা পূরণ করতে পারে।
যোগাযোগ :জিপিজ, ১৪৬, ওয়্যারলেস গেট, মহাখালী, ঢাকা।
