প্রযুক্তির বিশ্বকাপ

আপডেট : ১১ জুন ২০১৪, ২২:১৩
নানা প্রযুক্তির সমাহার নিয়ে হাজির হচ্ছে ব্রাজিল বিশ্বকাপ। আগের ১৯টি আসরের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া অনেকটা বেশিই। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্যবহূত হবে বহুল আলোচিত গোল লাইন প্রযুক্তি। ফ্রি-কিকের সময় রেফারি ব্যবহার করবেন ‘রেফারি ভ্যানিশিং স্প্রে’ নামক বিশেষ এক ধরনের স্প্রে। টিভি সম্প্রচারেও থাকছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বল ‘ব্রাজুকা’ তো থাকছেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলোচিত ৫টি প্রযুক্তি নিয়ে এই আয়োজন— গোললাইন টেকনোলজি একটু ফিরে তাকাতে হবে ২০১০ বিশ্বকাপের দিকে। দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। কপাল পুরেছিল ইংল্যান্ডের! জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে ল্যাম্পার্ডের একটি শট ক্রসবারে লেগে প্রতিপক্ষ গোললাইনের ভিতের ড্রপ খেয়ে আবার বাইরে চলে আসে। রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় গোল হয়নি ওটি! গোল হলে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় পেতে পারতো। কিন্তু বিধিবাম। ম্যাচটিতে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তারা। সেই থেকে গোললাইন প্রযুক্তি নিয়ে জোর পরীক্ষা শুরু করে ফিফা। এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্যবহূত হবে সেই বহুল আলোচিত গোললাইন প্রযুক্তি। জার্মান ফার্ম ‘গোল কন্ট্রোল’ ফিফাকে এ প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। বিশেষ ধরনের এই প্রযুক্তি গোলপোস্টে নিচ্ছিদ্র নজর রাখবে। গোলপোস্টের চারপাশে স্থাপিত ১৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। বল গোললাইন অতিক্রম করেছে কী না তা পর্যবেক্ষণ করে মুহূর্তের মধ্যে রেফারির ঘড়িতে সংকেত পাঠাবে। ইউএইচডি সম্প্রচার প্রযুক্তি ব্রাজিল বিশ্বকাপের সম্প্রচারেও আসছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। টেলিভিশন সম্প্রচারের সবচেয়ে আধুনিকতম প্রযুক্তি হচ্ছে আল্ট্রা এইচডি (ইউএইচডি)। এই প্রযুক্তি ৪-কে নামে পরিচিত। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফুটবল ম্যাচের যেকোন মুহূর্ত দর্শকরা দেখতে পারবে ৪ হাজার রেজুলেশনে ধারণকৃত ক্যামেরায়। তবে বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ ইউএইচডি প্রযুক্তিতে দেখানো হবে না; মাত্র ৩টি ম্যাচে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ২৮ জুন প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল, ৪ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৩ জুলাই ফাইনাল ম্যাচটি দেখানো হবে ইউএইচডি প্রযুক্তিতে। বলা যেতে পারে পরীক্ষামূলকভাবেই ইউএইচডি প্রযুক্তি ব্যবহূত হবে এবারের বিশ্বকাপে। পোশাক ও বুট বিশ্বকাপকে শুধু চার বছর পর চূড়ান্ত-পর্ব নিশ্চিত করা দলগুলোর লড়াই বললে ভুল হবে বৈকি। এর আড়ালে লড়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও। নানামুখী আধুনিক পণ্য নিয়ে হাজির হয় তারা। এবারের বিশ্বকাপে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারি দুই স্বনামধন্য কোম্পানী অ্যাডিডাস ও নাইকির লড়াইটাও হচ্ছে না। এবারের বিশ্বকাপেও তারা দৃষ্টিনন্দন ‘বুট’ ও ‘জার্সি’ নিয়ে আলোচনায় চলে এসেছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে উভয় কোম্পানী বুটে আরও উত্কর্ষতা এনেছে। নাইকির বুট ফুটবলারদের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে; পক্ষান্তরে অ্যাডিডাসের বুট ফুটবলারদের আরও সংরক্ষিত রাখবে। উভয় কোম্পানীর তৈরি করা এবারের জার্সি ফুটবলারদের পূর্বের তুলনায় আরও বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। ব্রাজুকা ফুটবল ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্যবহূত হবে ‘ব্রাজুকা’ শুধু বলই না, রীতিমত নানা গবেষণার ফসলও। বিশ্বকাপের জন্য অ্যাডিডাসের ১২তম সংস্করণ ব্রাজুকা। ২০১০ বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি’ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। জাবুলানি বাতাসে অপ্রত্যাশিত বাঁক নিতো। বলটি সম্পর্কে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার লুইস ফ্যাবিয়ানো মন্তব্য করেছিলেন এটি ‘অতি-প্রাকৃত’! ব্রাজুকা জাবুলানির তুলনায় বেশি শক্ত, বাতাসের বিভিন্ন স্তরে বলটি নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা করা হয়েছে। বলটি ছয়টি প্যানেল রয়েছে। যা বাতাসে আরও নিখুঁত এবং স্থিতিশীল গতিতে ছুটবে। পলিইউরেথেনের এসব প্যানেল থাকায় বৃষ্টি ও প্রচণ্ড চাপেও বলের আকৃতি ঠিক থাকবে। রেফারি ভ্যানিশিং স্প্রে বিশেষ ধরনের এই ভ্যানিশিং মার্কার স্প্রে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবলে বহু বছর ধরেই ব্যবহূত হচ্ছে। ফ্রি-কিক-এর সময় ফুটবলারদের সামনে এগিয়ে আসা বন্ধ করার জন্যই রেফারি এই স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন। পেনাল্টি বক্সের কাছে কোন ফ্রি-কিক সংঘটিত হলে রেফারি ১০ গজ সামনে একটি লাইন তৈরি করেন। ফ্রি-কিকটি নেয়ার সময় প্রতিপক্ষ ফুটবলাররা এই লাইনের বাইরে আসতে পারবে না। মজার বিষয় হচ্ছে, এক মিনিট পরেই লাইনটা শেষ হয়ে যাবে! ব্রাজিল বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হচ্ছে রেফারি ভ্যানিশিং স্প্রের।