বাংলাদেশের দু’টি যুদ্ধ জাহাজ ‘ওসমান’ ও ‘মধুমতি’ দীর্ঘ চার বছর ধরে শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘের পক্ষে ভূমধ্যসাগরে কাজ করে দেশে ফিরে আসছে। এই দুর্গম সাগরে অন্য কোন দেশের যুদ্ধ জাহাজ ৬ থেকে ৯ মাসের বেশি টিকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের দু’টি যুদ্ধ জাহাজ নিজস্ব কারিগরি প্রযুক্তিতে কাটিয়ে দিয়েছে চারটি বছর। ওই দু’টি জাহাজের জায়গায় কাজ করতে ‘আলি হায়দার’ ও ‘নির্মল’ নামের অপর দু’টি যুদ্ধ জাহাজ লেবাননে গেছে।
লেবাননের নৌ বাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল নাজিব আল জিবলী বাংলাদেশের নৌ বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, নেভাল নৌবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশের সদস্যদের কাছ থেকে অনেক বিষয়েই প্রশিক্ষণ নিয়েছে নেভাল নৌ বাহিনীর সদস্যরা। বাংলাদেশে নেভাল নৌ বাহিনীর আরো সদস্যকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল বুধবার বাংলাদেশে ফিরে আসা যুদ্ধ জাহাজ দু’টি ক্যাপ্টেনসহ কর্মকর্তাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্কৃতি বিনিময় করতেও আগ্রহী লেবানন। বাংলাদেশের নৌ বাহিনী শুধু দায়িত্ব পালনই নয়, গোয়েন্দা তত্পরতা চালিয়ে ৯০০ জন দস্যুর একটি তালিকাও করে দিয়েছে। বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হলো।
বাংলাদেশের নৌ বাহিনীর সহকারী প্রধান এ এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী গতকাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চার বছর ধরে বিপদসংকুল জায়গায় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই কর্মকর্তারা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। নতুন যারা দায়িত্ব পালনে যাচ্ছেন তারাও ভালো করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে নেভাল আর্মস ফোর্সেসের প্রধান মেজর জেনারেল ওয়াহিদ সালমান বাংলাদেশের যুদ্ধ জাহাজ দু’টির মধ্যে ‘ওসমানে’র ক্যাপ্টেন আবুল কালাম আজাদ ও মধুমতির কমান্ডার শরিফসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে লেবাননকে রক্ষায় বাংলাদেশের নৌ বাহিনী দারুণ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। লেবাননের অর্থনীতি যখন ধ্বংসের পথে তখন শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের নৌ বাহিনীর অবদান আমরা মনে রাখব। আমরা আমাদের সদস্যদের বাংলাদেশে প্রশিক্ষণে পাঠাব।
লেবাননের এই মিশনে উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ব্রাজিল, জার্মান, ইতালি, গ্রিস, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে। এই সকল দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সফলভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি লেবাননের নৌবাহিনীকে প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন বাংলাদেশের নৌ বাহিনীর সদস্যরা। লেবাননে বাংলাদেশের হাইকমিশন খোলা হয় বাংলাদেশ নৌ বাহিনী শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ নেয়ার পর। এর আগে সেখানে কোন দূতাবাস ছিল না। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী সমুদ্র মহড়া দেখে লেবানন সরকার বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল সক্ষম জাতি। জাতিসংঘের পাশাপাশি লেবানন সরকারও বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কার্যক্রমে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এক সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে লেবাননবাসীর ছিল ভিন্ন ধারণা। নৌ বাহিনীর দুঃসাহসিক কার্যক্রম দেখে তাদের সেই ধারণা পাল্টে যায়।
