জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিপুল সম্পদ প্রয়োজন

আপডেট : ১১ জুন ২০১৪, ২২:৫২
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলেও এ খাতে বিপুল সম্পদের প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ খাতে নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তিনি সরকারের কাজগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য দাতাদেশ ও সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত পরিবেশবিষয়ক বক্তা আইসিএফ, ইন্টারন্যাশনাল এর ইমপ্যাক্ট এন্ড অ্যাডাপটেশন ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড সাসটেইনাবিলিটির প্রিন্সিপাল জোয়ান পটার পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সাক্ষাতে তারা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কিভাবে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের উপকূলের জন্য ঘূর্ণিঝড় হুমকি উল্লেখ করে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, সিডরের মতো আরেকটি দুর্যোগ আসার আগে আমরা উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষার জন্য ব্যাপক কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু এ খাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এ কাজে তিনি দাতাদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। জোয়ান পটার বাংলাদেশে মোটরগাড়ির ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের কথা উল্লেখ করে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, রেল খাতের উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি বঙ্গবন্ধু সেতুর সাথে একটি পৃথক রেল সেতু করা হবে বলে জানান। জোয়ান পটার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এসময় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অর্থনৈতিক অফিসার সারাহ এল প্লেউলিং উপস্থিত ছিলেন। ‘উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে উন্নত দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে উন্মুক্ত আলোচনা ও সমাপনী অনুষ্ঠান গতকাল রাজধানীর ‘বন ভবনে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেন, পরিবেশ ঠিক রাখতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন সমস্যায় পড়বে তেমনি উন্নত দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে আগামী প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। পরে তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাংকন এবং শ্লোগান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব সারা বিশ্বেই অনুভূত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো ছোট রাষ্ট্রে এ উষ্ণায়নের প্রভাব শিল্পোন্নত দেশগুলোর চেয়ে বেশি পড়ে। যদিও পরিবেশ দূষণ এবং উষ্ণায়নের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোই বেশি দায়ী। ইউএনডিপির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন টেমেসিস বলেন, বিশ্বে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবার আগে প্রয়োজন মিঠা পানি ও বিশুদ্ধ পানি; কিন্তু জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনে পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। একইসাথে পানির দূষণ বাড়ছে। ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত মওজুদ নিশ্চিত করতে সব দেশকেই গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রভাব: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশগত ঝুঁকিতে আছি। দেশের ৯০ ভাগ গ্রামীণ মানুষ পুরোপুরি প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনে এ গ্রামীণ ও গরীব মানুষরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডল সভায় সভাপতিত্ব করেন।