অর্ধনির্মিত সেতু
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গজালিয়া-ফকিরটিলা সড়কে কুরমাই খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের অসম্পূর্ণতায় ১৫ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ঘোচেনি।
সরেজমিনে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ফুইট্যাগোদা, নজুরপাড়া, ফকিরটিলা, গজালিয়া, ছনখোলা বিল, মোল্লাপাড়া, আকবর সিকদারপাড়া, ওয়াহেদের পাড়া, সমসেরনগর, আলমশাহপাড়া ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুরসহ ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এ সড়কে যাতায়াত করে। এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ইউনিয়ন ও জেলা পরিষদের বড় বড় সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত এই গজালিয়া-ফকিরটিলা সড়ক। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরে যোগাযোগের জন্য সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সেতুর অভাবে কাদাপানির উপর দিয়ে নাজেহাল অবস্থায় কুরমাই খাল অতিক্রম করতে হয়। উত্পাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে যাতায়াতে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষার সময় পানির স্রোতে এই খাল পারাপার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
আলমশাহপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, একবছর আগে কুরমাই খালের উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের তিনটি পিলার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উপরে স্ল্যাব নির্মাণ করা হয়নি। পিলারের উপর কাঠ বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে এলাকার মানুষ খাল পারাপারের চেষ্টা করছেন। গজালিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান, পিলারের উপর কাঠের সাঁকো দিয়ে মানুষের পারাপার আদৌ নিরাপদ নয়। সাঁকো পার হতে মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়া স্ল্যাববিহীন সেতুর পিলারগুলো বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লালানগর ইউপি চেয়ারম্যান মীর তৌহিদুল ইসলাম কাঞ্চন বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের একলাখ টাকা বরাদ্দের অর্থ দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রাক্কলনে গজালিয়া-ফকিরটিলা সড়কের উপর অসম্পূর্ণ সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনটি পিলারেই বরাদ্দের অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। আগামীতে প্রাপ্তি সাপেক্ষে টিআর, কাবিটা কিংবা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ বরাদ্দ থেকে সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, পরিপূর্ণ প্রকল্প ও প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। বরাদ্দ অনুপাতে প্রকল্পের কাজ অর্ধসম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ তহবিল থেকে বরাদ্দের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
