একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট : ১১ জুন ২০১৪, ২৩:০৪
পাঁচদিনের চীন সফর শেষে গতকাল বুধবার দুপুরে দেশে ফিরে বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সোয়া দুইটায়। অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা বিকাল ৪টায়। এর আগেই, ৩টা ৫৫ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তখনো অনেক মন্ত্রী-এমপি সংসদে আসেননি। শেখ হাসিনার এমন পরিশ্রমের বিষয়টি চোখ এড়ায়নি সংসদ সদস্যদেরও। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান বিষয়টির অবতারণা করে বলেন ‘আমরা সবাই বিস্মিত। প্রধানমন্ত্রী বিমাববন্দরে পৌঁছলেন সোয়া দুইটায়। আর তিনি সংসদে আসলেন ৩টা ৫৫ মিনিটে। আমি শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী সবার আগে অধিবেশন কক্ষে এসে নিজ আসনে বসেছেন। তখনো আমরা অনেক সদস্য আসতে পারিনি। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এত পরিশ্রমী, সে দেশের উন্নয়ন হবেই, ইনশাল্লাহ। আমরা তার কাছ থেকে শিক্ষা নিচ্ছি।’ আছরের নামাজের বিরতির আগ পর্যন্ত সংসদে ছিলেন শেখ হাসিনা। এসময় তার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলাপ করছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন আলাপ করছিলেন, তখন বিকাল ৪টা ৩৮ মিনিটের দিকে কিছু কাগজপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাপানো হবে- এমন পোস্টারের বেশ কয়েকটি রঙিন ডিজাইন প্রধানমন্ত্রীকে দেখান হানিফ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভার ব্যানারের ডিজাইনও হানিফ প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেন। প্রতিটি ডিজাইন দেখে হানিফকে প্রথমে কিছু মৌখিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ও হানিফ চলে যাওয়ার পর আবার নতুন করে প্রতিটি ডিজাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তাকে পেন্সিল দিয়ে কিছু কিছু বিষয় সংশোধন করতেও দেখা যায়। এতে তাকে সহযোগিতা করছিলেন পাশের আসনে থাকা সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এরপর হানিফ আবার আসলে তাকে সবগুলো ডিজাইন বুঝিয়ে দেন শেখ হাসিনা। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আছরের নামাজের বিরতি ঘোষণা করেন। তখন সামনে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, সাহারা খাতুন, কাজী রোজী, আ.ফ.ম রুহুল হক, কামরুল ইসলাম, সামশুল হক চৌধুরী, শামসুল হক টুকুসহ বেশ কজন এমপি। এর ফাঁকে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে। দীপু মনির সঙ্গে আলাপের সময় মনে হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের মজার কোনো অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে দীপু মনির সঙ্গে কানে-কানেও প্রায় এক মিনিট কথা বলেন তিনি। অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করার সময় সামনে থাকা ১০-১৫ জন দলীয় সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হাসতে-হাসতে বলেন ‘কেউ কিন্তু সংসদ থেকে যাবেন না, আমি কিন্তু আবার আসছি।’ এমপিরা যেন সংসদে থাকেন, সেজন্য এমন কথা বলে গেলেও অবশ্য মাগরিবের আগ পর্যন্ত চলা অধিবেশনে আর ফেরেননি প্রধানমন্ত্রী। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার দেড় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়া প্রধানমন্ত্রীকে এতটুকুনও পরিশ্রান্ত মনে হয়নি, পুরোটা সময়ই তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।