‘আমি ও আমার সহকর্মীরা সবাই ভাল আছি। আমাদের আর কোন সমস্যা নেই। রাতেই ফ্লাইট। সকালে (আজ) পৌঁছব ঢাকায়। তোমরা কখন ঢাকায় রওনা দিচ্ছ? ’- গতকাল দুপুরে কেনিয়া থেকে মোবাইল ফোনে স্ত্রী জোস্না খাতুনকে এ কথাই জানিয়েছেন সোমালিয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে সাড়ে তিন বছর পর মুক্তি পাওয়া সাত নাবিকের একজন নুরুল হক। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এ সাত নাবিক কেনিয়া থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরন করবেন। অবসান হবে স্বজনদের সাড়ে তিন বছরের প্রতিক্ষার। তাদের অভ্যর্থনা জানাতে স্বজনরা গতকাল রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে থাকবেন পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও।
মুক্তি পাওয়া নাবিকরা হচ্ছেন সাতক্ষীরার নুরুল হক, গোলাম মোস্তফা, হাবিবুর রহমান হবি ,আবুল কাশেম সরদার, চট্টগ্রামের আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও চাঁদপুরের লিমন সরকার।
২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কেনিয়া যাওয়ার পথে মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী এমভি আলবেডো ভারত মহাসাগরে ছিনতাই হয়। এই সাত বাংলাদেশিসহ ওই জাহাজে ছিলেন ২২ জন নাবিক। অন্যদের মধ্যে সাত জন পাকিস্তানের, ৬ জন শ্রীলংকার, একজন ভারতের ও একজন ইরানের। ছিনতাইয়ের পর জাহাজটি ডুবে গেলে নাবিকদের অন্য একটি জাহাজে তুলেছিল জলদস্যুরা। এতদিন ধরে জলদস্যুদের হাতেই আটক ছিলেন তারা। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন আন্তার্জাতিক সংস্থার মধ্যস্থতায় গত ৬ জুন অপহরণকারীরা তাদের ফেরত দেয়। এরপর জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দফতরের বিশেষ বিমানে ঐ দিনই তাদের নেয়া হয় কেনিয়ার রাজধানী নাইরোরিতে। সেখানে একটি হাসপাতালে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে কেনিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। সেখানে পৌঁছাবার পর থেকে মুক্তি পাওয়া সাত নাবিক নিয়মিত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের ভ্রমণের কাগজ-পত্র তৈরি শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে আজ তারা দেশে ফিরছেন।
মুক্তি পাওয়া নাবিক নুরুল হকের শ্যালক হাজী মহসিনুল ইসলাম গতকাল রাতে মোবাইল ফোনে এই প্রতিনিধিকে জানান, গতকাল রাতেই চার নাবিকের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, নুরুল ইসলামসহ অন্যরা আমাদের মাঝে জীবিত অবস্থায় ফিরবে এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের সহযোগিতায় আমরা তাদের ফিরে পাচ্ছি। এরচেয়ে আনন্দের কী হতে পারে!
নাবিক গোলাম মোস্তফার ছোট ভাই মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, তার সঙ্গে তার ভাবী ( গোলাম মোস্তফার স্ত্রী) এসেছেন। হাবিবুর রহমান হাবির স্ত্রী ও এক ভাই এসেছেন। আর আবুল কাশেম সরদারের স্ত্রী এসেছেন। তিনি বলেন, হাবিবুর রহমান হবির মা ছেলের শোক সইতে না পেরে ৬ মাস আগে মারা গেছেন। তবে ছেলের আশায় দিন গুণছেন তার বৃদ্ধ পিতা ইমান আলী। বয়সের কারণে তিনি ঢাকায় আসতে পারেননি।
