১৯৬৬ সালে সদ্য বিশ্বজয় করে দেশে ফিরেছে ইংল্যান্ড। প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিতে মাতোয়ারা গোটা দেশ। বোনাস হিসেবে খেলোয়াড়রা প্রত্যেকে পেলেন এক হাজার পাউন্ড। সময় বদলে গেছে, বদলে গেছে ফুটবলও। এখন ওয়েন রুনি ১৮ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয়ার সময়ই প্রতি সপ্তাহে পান পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড। ম্যাচ প্রতি খেলোয়াড়রা পান পনেরশো পাউন্ড। শুধু রুনি কিংবা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেই নয়, গোটা ফুটবলের চিত্রটাই এখন এমন। বিশ্বকাপের ২০ তম আসরেও খেলছেন শীর্ষ কয়েকজন ধনী ফুটবলার। তাদের গল্প লিখেছেন এ কে এম মুজিব।
লিওনেল মেসি
সপ্তাহ প্রতি আয়:৩ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ড
বয়স: ২৬ বছর
ক্লাব: বার্সেলোনা
দেশ: আর্জেন্টিনা
স্পন্সর: অ্যাডিডাস, তার্কিশ এয়ারলাইনস, পেপসিকো, হারবাল লাইফ, ইএ স্পোর্টস, ডোলস অ্যান্ড গ্যাবানা, জিলেট।
সর্বশেষ বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিনিয়ে নিলেও এর আগে চারবারের বিশ্বসেরা হয়েছিলেন তিনি। আর বার্সেলোনার হয়ে শত-শত অর্জন তাকে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা। এর প্রভাব পড়েছে তার আয়েও। বর্তমান ফুটবলে তিনি সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়। তাকে ঘিরে তাই স্পন্সরদের আগ্রহটা তাই মোটেই বাড়াবাড়ি নয়। ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান লিগের এক মৌসুমে তিনি ৭৩ টি গোল করে ভেঙেছেন ৩৯ বছরের পুরনো রেকর্ড। আর ২০১৩ সালে অ্যাডিডাসের ‘আইকন সিগনেচার’-এর মধ্য দিয়ে তিনি বাকি সবার থেকে নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
সপ্তাহ প্রতি আয়: তিন লাখ ইউরো
বয়স: ২৯ বছর
ক্লাব: রিয়াল মাদ্রিদ
দেশ: পর্তুগাল
স্পন্সর: নাইকি, কোকা-কোলা, ক্যাস্ট্রোল, মটোরোলা, হারবাল লাইফ, কেএফসি, ট্যাপ হুয়ার, এম্পোরিও আরমানি।
কদিন আগেও আয়ের দিক থেকে শীর্ষে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর কদিন আগে বার্সেলোনার সাথে নতুন চুক্তি অনুসারে মেসি এখন হয়ে গেছেন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়। কিন্তু রোনালদোও খুব একটা পিছিয়ে নেই। কর দিয়ে তার হাতে থাকে ২ হাজার ৮৮ হাজার পাউন্ড। তবে, বিশ্বকাপ শেষ হলেই রিয়ালের সাথে নতুন চুক্তিতে যাওয়ার কথা বেশ জোরেসোরেই শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে রোনালদো ফিরে পেতে পারেন নিজের হারানো আসন। গত মার্চের হিসাব অনুযায়ী রোনালদো এখন প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড সম্পদের মালিক।
রবিন ফন পার্সি
সপ্তাহ প্রতি আয় :২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড
বয়স :৩০ বছর
ক্লাব :ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দেশ :নেদারল্যান্ডস
স্পন্সর :নাইকি, অ্যাডিডাস, বিটি স্পোর্টস পেপসি।
তার অর্জনের খাতাটাও বেশ রঙিন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড়ের মকুট ‘পিএফএ প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে লিগ শিরোপা জয় — সব মিলিয়ে মিলিয়ে আর্সেনাল থেকে রেড ডেভিলদের হয়ে নাম লেখানোর পর থেকে নিজেকে নতুন করেই চিনিয়েছেন রবিন ফন পার্সি। স্বাভাবিকভাবেই নাইকি, অ্যাডিডাসের মত স্পন্সররাও নতুন করে তার প্রতি দেখিয়েছে।
সার্জিও অ্যাগুয়েরো
সপ্তাহ প্রতি আয় : ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড
বয়স: ২৬ বছর
ক্লাব: ম্যানচেস্টার সিটি
দেশ: আর্জেন্টিনা
স্পন্সর: পুমা, পেপসি।
ইনজুরির কারণে, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে খেলেননি প্রায় এক মাস। এরপরও বিশ্বকাপে তাকে মনে করা হচ্ছে আর্জেন্টাইন দলের অন্যতম তুরুপের তাস। আর ২০১৩ সালের মে মাসে সিটির সাথে তার নতুন চুক্তিপত্রে সই, তাকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ফুটবলারে পরিণত করেছে।
ইয়াইয়া তোরে
সপ্তাহ প্রতি আয়: ২ লাখ ৩০ হাজাপ পাউন্ড
বয়স: ৩১ বছর
দেশ: আইভোরি কোস্ট
স্পন্সর: পুমা, ফোর্ড।
প্রায় এক কোটি পাউন্ডের চার বছর মেয়াদি চুক্তিই তাকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ফুটবলারে পরিণত করেছে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আইভোরি কোস্টেরও অন্যতম ভরসার নাম এই ইয়াইয়া তোরে। দেশের হয়ে ৮২ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা তোরে ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে নিয়ে গেছেন দেশকে। বিশ্বকাপের শীর্ষ ১০ ফুটবলারের মতে এক তোড়ে বাদ দিলে বাকি সবাই খেলেন আক্রমণভাগে। এরমধ্যেও সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে করেছেন ২০ গোল।
ওয়েন রুনি
সপ্তাহ প্রতি আয় : ৩ লাখ পাউন্ড
বয়স: ২৮ বছর
ক্লাব: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দেশ: ইংল্যান্ড
স্পন্সর: হারপার কলিন্স, নাইকি, ইএ স্পোর্টস, কোকা-কোলা।
গত মৌসুমের পারফরম্যান্স যাই বলুক না কেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এখনও বিশ্বের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর একটি। আর জর্জ বেস্ট ও রায়ান গিগসের পর ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন ওয়েন রুনি। তারই প্রভাব দেখা যায় আয়ে। নাইকি, কোকা-কোলার মত স্পন্সররা তো আছেই, সাথে হারপার কলিন্স প্রকাশনা সংস্থা থেকে ২০১২ সালে বের হয়েছে রুনির আত্মজীবনী ‘মাই ডিকেডস ইন দ্য প্রিমিয়ার লিগ’। সব মিলিয়ে তাই এখন প্রায় ছয় কোটি ইউরোর মালিক এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
লুইজ সুয়ারেজ
সপ্তাহ প্রতি আয়: ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড
বয়স: ২৭ বছর
ক্লাব: লিভারপুল
দেশ: উরুগুয়ে
স্পন্সর: অ্যাডিডাস
ইনজুরি নিয়েই তিনি এসেছেন বিশ্বকাপে। শুরু থেকেই মাঠে নামতে পারবেন কি না সেটা নিশ্চিত নয় এখনও। গত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সামপ্রতিক সময়ে যা পারফরম্যান্স তাতে ম্যাচ খেলে ফেললে বাকি দলগুলোর জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারেন লুইস সুয়ারেজ। ৩৯ টি গোল করে উরুগুয়েরও সর্বকালের সেরা গোলদাতা তিনি। গত ডিসেম্বরে লিভারপুলের সাথে নতুন চুক্তির ফলে এখন তিনি বিশ্বেরই অন্যতম ধনী ফুটবলার।
ডেভিড সিলভা
সপ্তাহ প্রতি আয়: দুই লাখ পাউন্ড
বয়স: ২৮ বছর
ক্লাব: ম্যানচেস্টার সিটি
দেশ: স্পেন
স্পন্সর: অ্যাডিডাস।
অদ্ভুত সুন্দর পাসিং ফুটবলের জন্য স্পেন ফুটবলের মধ্যমনি ডেভিড সিলভা তিন মৌসুম ধরেই ম্যানচেস্টার সিটিতে সপ্তাহ প্রতি পান দুই লাখ পাউন্ড। পাঁচ বছর মেয়াদে ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৫০ টি ম্যাচ। লিগ শিরোপা, লিগ কাপ, এফ এ কাপের শিরোপার পাশাপাশি অ্যাডিডাসের কাছে তার আদুরে নাম ‘নিউ ব্র্যান্ড প্লেয়ার’।
ইডেন হ্যাজার্ড
সপ্তাহ প্রতি আয়: ১ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড
বয়স: ২৩ বছর
ক্লাব: চেলসি
দেশ: বেলজিয়াম
স্পন্সর: নাইকি।
তাকে মনে করা হয় সময়ের অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তুলনা করা হয় জিনেদিন জিদানের সাথে। চেলসিতে এখন তিনি প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৮৫ পাউন্ড করে গুনেন। গুঞ্জন আছে তাকে দলে ভেড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। সেক্ষেত্রে আরও বেড়ে যেতে পারে তার পারিশ্রমিক।
ফার্নান্দো তোরেস
সপ্তাহ প্রতি আয়: ১ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড
বয়স: ৩০ বছর
ক্লাব: চেলসি
দেশ: স্পেন
স্পন্সর: অ্যাডিডাস, পেপসি, আভিভা।
‘চক চক করলেই সোনা হয় না’ — ফুটবল বিশ্বে কথাটির সবচেয়ে বড় নিদর্শন ফার্নান্দো তোরেস। সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত সব ঠিক-ঠাক চলছিল। কিন্তু এরপর থেকেই তালটা ছিঁড়ে গেছে। অথচ লিভারপুলের হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০ গোল করার রেকর্ডটা আছে তারই দখলে। ১০০’র বেশি ম্যাচ খেলে এরই মধ্যে তিনি স্পেনের ইতিহাসে হয়ে গেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। চেলসির হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড জ্বলে উঠতে পারবেন তো এবার?
