বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো ঢাকা জিপিও’র ডাক জাদুঘর-এর কথা।
বিষয় বৈচিত্র আর কালের সাক্ষী হয়ে ঢাকার বিভিন্ন অংশে যে জাদুঘরগুলো আজও টিকে আছে তারই মধ্যে অন্যতম একটি হলো ঢাকা জিপিও’র ভেতরে ডাক অধিদপ্তরের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডাক জাদুঘর। মূলত ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা জিপিও’র কাউন্টারের পাশে একটি সাধারণ প্রদর্শণী হিসেবেই যাত্রা শুরু হয়েছিল এই জাদুঘরের। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে তা স্থানান্তরিত হয় বর্তমানের অবস্থানে যেখানে দু’টি কক্ষ জুড়ে দুই হাজার বর্গফুটেরও কিছু বেশি জায়গা নিয়ে চালু রয়েছে এই জাদুঘরটি। জাদুঘরে ঢুকতেই প্রথম ছোট যে কক্ষটি সেটি মূলত নানা ধরনের ডাকটিকিট দিয়ে সাজানো যেখানে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নভুক্ত ১৯১টি দেশ থেকে সংগৃহিত। পাশেই বিশাল একটি কক্ষজুড়ে পোস্টাল মিউজিয়ার যার শুরুতেই চোখে পড়বে একজন রানার বা পোস্টম্যানের অবয়ব। এর পাশেই রয়েছে পোস্ট অফিসের একটি মডেল। প্রদর্শনী কক্ষটির দেয়ালে রয়েছে ডাক বিভাগের সাথে জড়িত দেশ-বিদেশের অনেক বিভিন্ন ব্যক্তিদের ছবি। আর মাঝখানের বিশাল জায়গা জুড়ে সাজানো রয়েছে নানা সময়ে ব্যবহূত সিলমোহর আর ডাকবাক্স। এর মাঝে ১৮৯০ সালে নয় মন ওজনের একটি ডাকবাক্স যেমন আছে তেমনি রয়েছে রানী ভিক্টোরিয়ার সময়কার রাজমুকুটের প্রতিরূপ সমৃদ্ধ ডাকবাক্সও। এ ছাড়া জাদুঘরের বিভিন্ন প্রান্তে সাজিয়ে রাখা অন্যান্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্সেল ওজন করার জন্য নানা সময়ে ব্যবহূত বেশ কিছু স্কেল, ওজন মাপার পুরনো বাটখারা, এক সময় ডাক বিভাগের মাধ্যমে কুইনাইন বিক্রির বিজ্ঞাপন, রানার বা পোস্টম্যানদের ব্যবহূত ব্যাগ, মানিকট ও চামড়ার ব্যাগ, ব্যাগ কাটার ছুরি, নানা আকৃতির তালা, পুরনো পাঞ্চিং মেশিন, পোস্টম্যানদের ব্যবহূত ঘড়ি, সরকার প্রধান ও বিশেষ ব্যক্তিদের উদ্বোধন করা খামসহ ডাকটিকিট, রানারদের ব্যবহূত বর্শা ও তলোয়ার, পোস্টম্যানদের ব্যবহূত ধাতব টুপি, বাতি, নানা ধরনের ব্যাজ, বিউগল, বন্দুক, ব্রিটিশ আমলের হারিকেন প্রভৃতি।
