শব- ই-বরাতের করণীয়-বর্জনীয় আমল

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২০:৩৮
“শব-ই-বরাত” শব এর অর্থ রাত আর বরাত শব্দের অর্থ মুক্তি। অতএব শব-ই -বরাত অর্থ মুক্তির রাত। এরাতে আল্লাহ তায়ালা অভাব অনটন রোগ,শোক ও বিপদ আপদ থেকে মুক্তি চাওয়ার জন্য মানুষকে আহব্বান জানান। এবং আল্লাহর নিকট চাইলে তিনি সকল খারাবিয়াত্ থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন তাই এ রাতকে শব-ই-বরাত বা মুক্তির রাত বলে। শাবান মাসের ১৫ ই রাত অর্থাত্ ১৪ শাবান দিবা গত রাতই হল শব-ই-বরাত। এবত্সর আজ শুক্রবার ১৪ই শাবান’ ১৪৩৫ হিজরী দিবাগত রাতই শব-ই-বরাত। এ প্রসঙ্গে রসূল (স.) বলেন শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত এলে তোমরা সেই রাতে ইবাদতে দাড়াও এবং ঐ তারিখের দিনের বেলায় রোজা রাখ। কেননা আল্লাহ তায়ালা ঐ তারিখে সূর্যাস্তের পর পৃথিবীর আকাশে নেমে এসে বলেন, শোন! আছে কি কেউ আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। আছেকি কেউ রিজিক প্রার্থনা কারী? আমি তাকে রিজিক দান করবো। আছেকি কেউ প্রার্থনাকারী? আমি তাকে বিপদ মুক্ত করবো। আছেকি কেউ আর কিছু প্রর্থনাকারী? ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত এভাবে আহব্বান করা হয় (ইবনে মাজা ১৩৮৮)। উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন আমি জিজ্ঞেস করলেন’ ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনি শা’বান মাসে যে রূপ রোজা রাখেন, অন্য কোন মাসে আমি আপনাকে এত অধিক রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি বলেন এটি রজব ও রমজানের মাঝখানে এমন একটি মাস যে সম্পর্কে লোক জন উদাসীন থাকে। এ মাসে (বান্ধার) যাবতীয় কৃতকর্ম জগত্ সমূহের প্রতিপালকের নিকট তুলে নেয়া হয়। আমি পছন্দ করি যে,আমার রোজা থাকা অবস্থায় আমার কৃতকর্ম সমূহ তুলে নেয়া হোক” (নাসাঈ, সয়ামনং ২৩৫৯, মুসনাথ আহমাদ)। হাদীস শরীফের আলোকে ফিকাহ কিতাবে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী শব-ই-বরাত উপলক্ষে ৬ টি আমলের কথা প্রামানিত। ১। ১৪ই শাবান দিবাগত রাতে জাগরন করে নফল ইবাদাত বন্দেগী জিকির আজগার ও কোরআন তেলাওয়তে লিপ্ত থাকা এ রাতে যে কোন নফল নামাজ পড়া যায়। যে কোন সূরা দিয়ে পড়া যায় এর জন্য কোন নিদৃষ্ট সূরা দিয়ে পড়া জরুরি নয়। যত রাকাত ইচ্ছা পড়া যাবে। নিজ ঘরে পড়াই উত্তম। একান্ত বাসা বাড়ীতে পড়ার পরিবেশ না থাকলে মসজিদে পড়তে পারেন। বর্তমানে শব-ই-বরাত উপলক্ষে ইবাদাত করার জন্য মসজিদে ভিড় করার একটা রছম হয়ে গিয়েছে। তাই যথা সম্ভব বাসা বাড়ীতেই ইবাদাত করা উত্তম। ২। এ রাতে বেশি বেশি দোয়া করা কেননা আল্লাহ তায়ালা সূর্যাস্তের পর সুবে সাদেক পর্যন্ত দুনিয়ার আসমানে এসে মানুষকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য রোগ, শোক, রিযিক চাওয়ার জন্য বিপদ আপদ থেকে মুক্তির জন্য তথা বিভিন্ মাকসুদ পূর্ণ হওয়ার জন্য আহবান করতে থাকেন। তদুপরী অন্য এক হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী এ রাতে মানুষের সারা বত্সরের হায়াত মওত ও রিযিক দৌলত ইত্যাদি লেখা হয়ে থাকে। অতএব এ রাতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করা চাই। ৩। হদীস শরীফে আছে এ রাতে নবী করীম (স.) কবর স্থানে গিয়াছিলেন এবং মৃত মুসমানদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করেছিলেন তাই এ রাতে কবর জেয়ারতে যাওয়া যায়। তবে নবী করীম (স.) কবর স্থানে একাকি গিয়েছিলেন কাউকে সাথে নিয়ে আড়ম্বর সহকারে যাননি। তাই এ রাতে দলবল নিয়ে সমারোহ করে আড়ম্বরের সাথে না করে নিরবে কবর জেয়ারত করা যায়। ৪। নবী করীম (স) মৃত মুসমানদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করেছিলেন। এটা ইসালে সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ রাতে মৃতদের জন্য দোয়া ছাড়া ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ও ইসালে সওয়াব করার অবকাশ রয়েছে। যেমন কিছু দান-খয়রাত ও নফল ইবাদাত করে তার সওয়াব মৃতদেরকে উদ্দেশ্য করে বখশে দেয়া এটা করা উত্তম। ৫। ১৪ ই শাবান দিবাগত রাতে সেহরী খেয়ে ১৫ শাবান নফল রোজা রাখা উত্তম। সে ক্ষেত্রে শব-ই-বরাতের জন্য ১৩ জুন শুক্রবার রাতে সেহরী খেয়ে ১৪ জুন রোজা (নফল) রাখা উত্তম । ৬। শব-ই-বরাতের (১৪ শাবান দিবাগত রাতে ) গোসল করা মুস্তাহাব (দেখুন রুদ্দুল মুহতার ১ম খন্ড, বেহেস্তী গওহার)। শব-ই-বরাতের বর্জনীয় আমল ঃ উপর উল্লেখিত ৬টি বিষয় ছাড়া কোন আমল কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণীত নয়। শব-ই-বরাত উপলক্ষে মোমবাতী জ্বালানো, আতশ বাজী ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ। এগুলো বদ রছম বেদায়াত ও গুনাহের কাজ। এসকল কাজ সকল মোসলমানদের পরিত্যাগ করতে হবে। যাতে করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং বাংলার সকল সকল মুসলিম তথা বিশ্বের সকল ন্যায়-নিষ্ঠাবান নর-নারীর জন্য দোয়া করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কে যে জন্য সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে আল -কুরআনের সূরা জারিয়ার ৫৬ নং আয়াতে বলেন “ওমাখালাকতুল জিন্নাহ ওল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন” অর্থাত্ আমি জ্বিন ও মানুষকে একমাত্র আমার এবাদাত করবার জন্য সৃষ্টি করেছি। এ প্রসংঙ্গে সূরা আনয়াম ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন কুল ইন্নাহ সলাতি... আলামিন। অর্থ আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন,আমার মৃত্যু সব কিছু এ সারা জাহানের প্রতিপালকের জন্য যেহেতু কেয়ামতের দিন আমাদের আমলনামা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের নিকট দিয়ে বলবেন তা সূরা বনী ইসরাইলের ১৪ নং আয়াতে বলেন ইকরা কিতাবাকা কাফাবি নাফসিকাল ইয়াওমা আলাইকা হাসিবা” পড় আপন কর্মের রেকর্ড আজ তোমাদের নিজের হিসাব করার জন্য তুমিই যথেষ্ট।