গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধানমতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বৈধ বলে মত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত রিট মামলার রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে আজমালুল হোসেন এ মত দেন।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আইনানুযায়ী তারা বৈধ। কারণ আরপিও’র ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালিত হয় ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) মাধ্যমে। এটা সংবিধানের চতুর্থ তফশিল দ্বারা সংরক্ষিত। আরপিও অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা থেকে ফলাফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত যে কার্যক্রম পরিচালনা করবে সেটা হবে নির্বাচনী কার্যক্রম। এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হলে আরপিও অনুসরণ করতে হবে। কোনো আসনে যদি একক প্রার্থী থাকে, তখন ওই আসনে ভোট গ্রহণের অপরাপর কার্যক্রম পরিচালনার (যেমন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ করে ব্যালট পেপার ছাপা, ভোট কেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ ইত্যাদি) সুযোগ থাকে না। শুধু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। এটাই নির্বাচনী কার্যক্রম।
তিনি বলেন, এটা কেউ না মানতে চাইলে তিনি তা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে বা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। অন্য কোনো ফোরামে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কোনো আসনে একক প্রার্থী হতে পারবে না আইনের কোথাও তা বলা নেই। আরপিওতে ‘না ভোট’-এর বিধান যুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করবে জাতীয় সংসদ। সংসদকে আইন প্রণয়ন করার নির্দেশনা আদালত দিতে পারে না। জাতীয় সংসদে প্রণীত কোনো আইন যদি কেউ না মানেন তবে সেক্ষেত্রে আদালত আইন মানা নির্দেশনা দিতে পারে সংশ্লিষ্টদের।
ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০টি সাধারণ নির্বাচন (জাতীয় সংসদ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেকটিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ না কেউ নির্বাচিত হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় সংসদে ১১ জন, চতুর্থ সংসদে ১৮ জন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৪৯ জন এবং দশম সংসদে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। এমনকি নয়টি জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক নেতারা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এটা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। সুতরাং এ পর্যায়ে এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে সংসদ গঠিত হতে পারে কি পারে না সে বিতর্ক রাজনৈতিক। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সমাধান হবে। রাজনৈতিক বিষয় আদালতের দেখার সুযোগ নেই। সেটা করা হলে আদালত নিয়ে বিতর্ক হবে। আদালতকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা সংক্রান্ত আরপিও ১৯ ধারা কেন সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। এই রুল শুনানির জন্য কয়েকজন অ্যামিকাসকিউরি নিয়োগ দেয় আদালত। ইতিমধ্যে সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিক-উল হক অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে আদালতে এ মামলায় বক্তব্য রেখেছেন।
