মানুষের মুখে যারা বিষযুক্ত ভেজাল খাবার তুলে দেয় তাদের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। নিরবে তারা জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে ক্যান্সার, কিডনিসহ নানা মরণব্যাধি বৃদ্ধি পাওয়ার মূলে ভেজাল খাদ্য। গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ভেজাল ও মাদক বিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে ‘নিরাপদ খাদ্য ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, খাদ্যে বা ওষুধে ভেজালকারীরা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের চেয়ে কম বিপজ্জনক নয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। কেউ ভেজাল দিয়েছে এটা প্রমাণিত হলে অপরাধীকে ১৯৭৪ সালের স্টেট পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে তিনি বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান। নাসিম বলেন, তাদের ফাঁসির সাজা না দিলে খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বন্ধ হবে না।
মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, দেশে বড় বড় সংগঠন বা সমিতি রয়েছে। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে এসব সমিতিরও দায়িত্ব রয়েছে। যারা ভেজাল মেশায় তাদের সমিতি থেকে বের করে দিন। এসব ঘাতকদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জনবিরোধী আন্দোলন না করে ভেজাল, মাদক ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করুন। আমরা স্বাগত জানাবো।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশে জঙ্গি দমন করতে পারলে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে পারবো না কেন? বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ভেজাল প্রদানকারীদের শাস্তি দিতে যে আইন আছে তার সঠিক প্রয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ১৯টি টেক্সটাইলের রং খাদ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে ক্যান্সার-কিডনি রোগী বাড়ছে। শিশুরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সিটি এডিটর আবুল খায়ের একটি ভেজালবিরোধী অভিযানে সরেজমিন গিয়ে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে কিভাবে তার শরীরে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রবেশ করেছিল এবং এর ফলে কিভাবে ১০ বছর ধরে অসুস্থতায় ভুগেছেন তার বিবরণ তুলে ধরেন।
ভেজাল ও মাদক বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি ও গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদার প্রমুখ।
