খালেদা-তারেককে নিয়ে সংসদে দুই এমপির বিষোদগার

আপডেট : ১২ জুন ২০১৪, ২৩:১১
সংসদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্য। এরা হলেন— পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ ও সিরাজগঞ্জ-২ এর এমপি হাবিবে মিল্লাত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর প্রথমেই পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া প্রতিবছর জিয়ার ‘কথিত’ কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারতের সময় নারীরা সাধারণত মাথায় ঘোমটা দেন। তবে খালেদা জিয়াকে আমরা কখনও ঘোমটা দিতে দেখি না। এর দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত: খালেদা জিয়া জানেন এই কবরে জিয়ার লাশ নেই, দ্বিতীয়ত: জিয়া মৃত্যুবরণ করায় তিনি লাভবান হয়েছেন। জিয়া হত্যা নিয়ে নতুন করে দোষারোপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়া যে রাতে নিহত হন, এর পাশের কক্ষে ছিলেন বি. চৌধুরী (সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী)। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেই বি. চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছেন। দু’বার প্রধানমন্ত্রী হলেও খালেদা জিয়া কখনও জিয়া হত্যার তদন্তের উদ্যোগ নেননি। এর কারণ, নতুন করে বিচারের উদ্যোগ নেয়া হলে বি. চৌধুরী তো ফাঁসতেনই, হয়তো খালেদা জিয়া নিজেও ফেঁসে যেতেন। তিনি বলেন, খাবারের উচ্ছিষ্ট ছিটালে অনেক কাক-পক্ষী আসে। জিয়াউর রহমানও তেমনি ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ছিটিয়েছিলেন। সেই উচ্ছিষ্টের ফল বিএনপি। তারেক রহমানের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই সদস্য বলেন, এই ‘অর্বাচীন’ একের পর এক ইতিহাস বিকৃত করে চলছে। গণমাধ্যম দয়া করে এগুলো না ছাপালেই ভালো হতো। এই ‘অর্বাচীনের’ উচিত এসব কথা না বলে বরং নিজের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়গুলো মোকাবেলা করা। প্রসঙ্গত, হাছান মাহমুদ ফ্লোর নিয়েছিলেন মূলত চীন সফরের মাধ্যমে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ ও দ্বিতীয় কালুরঘাট সেতু নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে ধন্যবাদ জানানোর জন্য। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি হাবিবে মিল্লাত বলেন, আমরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম পত্রিকায় দেখি যখন তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম দেখি যখন তিনি শিশুদের সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন। আর তারেক রহমানের নাম শুনি যখন হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের খবর আসে, তখন। তিনি (তারেক রহমান) নাকি অসুস্থ, বিমানে চড়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন না। অথচ আমরা দেখলাম বিমানে চড়ে তিনি লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় গেছেন। তখন তিনি অসুস্থ থাকেন না। আসলে জনরোষের ভয়ে তিনি বাংলাদেশে আসার সাহস পান না। আওয়ামী লীগের এই এমপি আরো বলেন, জয় ও পুতুলকে দেখে তারেক রহমানেরও একটি শখ জেগেছে, তিনি ব্যারিস্টার হতে চান। তিনি ভেবেছেন, আমার মা যদি মেট্রিক পাস না করেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তাহলে মেট্রিক পাস করে আমি কেন ব্যারিস্টার হতে পারবো না। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো বিএনপিকে ফরমালিন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে ফরমালিনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, ফরমালিন বন্ধ করুন, বিএনপিকে অন্য কোনো কেমিক্যাল দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ‘তিনি সবসময় সংশয়ে থাকতেই পছন্দ করেন’ এইচএম এরশাদের সমালোচনা করে হাবিবে মিল্লাত বলেন, এই সংসদে এখন যারা বিরোধী দল (জাপা), সেই দলটির চেয়ারম্যান বাজেট সম্পর্কে বলেছেন ‘এই বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে আমার সংশয় আছে’। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও আমরা তার সংশয় দেখেছি। তিনি সবসময় সংশয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। আজ (বৃহস্পতিবার) পত্রিকায় দেখলাম তিনি বলেছেন ‘আমার নির্দেশ না মেনে আমার দল নির্বাচনে গেছে।’ আমরা দেখছি তিনি নিজেও তার দলের নির্দেশ মেনে এই সংসদে বসে আছেন। এরশাদ অবশ্য এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সংসদে উপস্থিত থাকা জাপা সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার চেহারা এসময় ম্লান হয়ে যায়। উল্লেখ্য, বুধবার রংপুরে এক অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেছেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন কোনো নির্বাচন নয়। আমি এই নির্বাচনে যাইনি, আমার নির্দেশ না মেনেই আমার দল নির্বাচন করেছে। এদিকে স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী গতকাল পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বাসা ও অফিসে শীতাতপ যন্ত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয় তুলে ধরেন। এ ব্যাপারে তিনি স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।