ফার্মগেট থেকে কাওরানবাজার সোনারগাঁও সিগন্যাল এলাকা পর্যন্ত প্রতিদিনই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। পাশাপাশি টানা পার্টির দৌরাত্ম্যতো রয়েছেই। এই এলাকায় ২০/২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট মাসের পর মাস ধরে এই ছিনতাই চালিয়ে আসলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে দুই/একজন ছিনতাইকারী আটক হলে পুলিশ তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। কিন্তু ভুক্তভোগী কেউ এই ঘটনায় মামলা করেন না বলে পুলিশেরও করার কিছুই থাকে না।
এরকম ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে বাংলামোটর সিগন্যাল, শাহবাগ সিগন্যাল, বিজয়নগর সিগন্যাল, পল্টন সিগন্যাল, গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল শাপলা চত্বর, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্কর, মহাখালী ফ্লাইওভার ব্রিজের নীচে আমতলী সিগন্যাল, বাড্ডা লিংক রোড, বনানী কাকলি ক্রসিং, বিমানবন্দর গোলচক্কর মোড়, উত্তরা আব্দুল্লাহপুর সিগন্যাল, নিউমার্কেট নীলক্ষেত মোড়সহ রাজধানীর আরো ১০/১২টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কয়েক শিফটে এসব স্থানে ছিনতাইকারী চক্রগুলো সক্রিয় থাকে। ট্রাফিক সিগন্যালে যানজটের মধ্যে থেমে থাকা বাস যাত্রীদের ওপর এই চক্র সবচেয়ে বেশি টার্গেট করে। বাসের জানালা খোলা রাখা অবস্থায় কোনো যাত্রী মোবাইল ফোনে কথা বললে বা হাতে নিয়ে ইন্টারনেট দেখলে ছিনতাইকারী হাত ঢুকিয়ে ছোঁ মেরে মোবাইল ফোনটি নিয়ে মুহূর্তে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়। অনেক সময় ভুক্তভোগী ছিনতাইকারীকে ধরার জন্য দৌড় দিলে সময় সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোন সেটটি তার চক্রের অপর সদস্যের হাতে হস্তান্তর করে দেয়। আবার অনেক সময় ভুক্তভোগী হাতেনাতে ধরে ফেললে ছিনতাইকারীকে গণধোলাই দেওয়ার নাম করে তারই চক্রের সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়।
গত শুক্রবার রাতে এমনই এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে কাওরানবাজারের বিএসইসি ভবনের সামনে। এখানে এক তরুণী বনানী-মতিঝিল রুটের একটি বাসে ওঠার সময় গেরুয়া রঙের গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি (ছিনতাইকারী) ওই বাসের দরজা দিয়ে উঠতে থাকেন। দরজায় ভিড়ের মধ্যে ওই ব্যক্তি তরুণীর ভ্যানিটি ব্যাগের চেইন খুলে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে লুঙ্গির ভেতর লুকিয়ে ফেলেন। এ সময় তরুণী বিষয়টি টের পেয়ে চিত্কার শুরু করলে ছিনতাইকারী ভোঁ-দৌড় দিয়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়।
