পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে ১৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২২:৪৭

অবশেষে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধে ১৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের অর্থ শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বকেয়া বেতন, মজুরি ও উত্সব ভাতাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত ২ এপ্রিল থেকে সারাদেশে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৬টি পাটকলের প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের ফলে পাটকলগুলোতে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। উত্পাদন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কোনো কোনো মিলে এ বছর কোনো উত্পাদন হয়নি। এ অবস্থায় সরকারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। ‘অপারেশন লোন’ হিসেবে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ২০ বছরে ৫ শতাংশ সুদে প্রতি ছয় মাসের কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আর এ জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিজেএমসিকে একটি ঋণ চুক্তি করতে হবে। চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বরাদ্দ দেওয়া অর্থ কেবল শ্রমিকদের বকেয়াসহ মজুরি এবং উত্সব ভাতা হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো খাতে দেওয়া যাবে না। বিজেএমসি শ্রমিকদের প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে এ টাকা পাঠানো হবে। শুধু তাই নয়, বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ব্যয়ের সাতদিনের মধ্যে মিলভিত্তিক শ্রমিকদের তালিকাসহ বিস্তারিত বিবরণী অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিজেএমসির কাছে এতদিন শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা দিতে ভরসা পায়নি সরকার। তাই, সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি    শ্রমিকদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে এ অর্থ জমা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে সরকারের পাটকলগুলোতে। পাটের বহুমুখী উত্পাদন ও ব্যবহারে দেশে ও বহির্বিশ্বে পাটের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও বিজেএমসি তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। দক্ষ জনবল ও সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে লোকসানে পতিত হচ্ছে সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি বছরই তাদের কয়েকশ কোটি টাকা লোকসান বাড়ছে।