অভাব দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি এদেরকে। শত প্রতিকূলতার মাঝে ভাল ফলাফল করলেও সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত্। আর এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
ডাক্তার হতে চায় পিতৃ
মাতৃহীন ইমরান
লক্ষ্মীপুর সদর থানার আমানী লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইমরান হোসেন শিশুকালেই পিতা-মাতাকে হারিয়ে এতিম হয়। কিন্তু লেখাপাড়ার প্রতি ছিল তার প্রচণ্ড আগ্রহ। লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নেয়ার পাশাপাশি এক ভাই ও এক বোনের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পড়ে তার ঘাড়ে। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা এবং নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হয়ে এদেশের দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু দারিদ্র্য তার সাফল্যের পথে বড় বাধা। ভাবনা একটাই, কে নেবে দায়িত্ব দরিদ্র অনাথ এই এতিম বালকের।
আর্থিক সংকটে রনির
লেখা-পড়া অনিশ্চিত
দিনমজুরি করে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়েছে কাজীপুরের মনির হোসেন। মনির হোসেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বিয়াড়া গ্রামের দিনমজুুর আব্দুল আলিমের পুত্র। কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করলেও আগামীতে তার পিতার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ যোগানো অসম্ভব। আর্থিক সহযোগিতা না পেলে পড়ালেখা বাদ দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না বলে মনির জানায়।
দারিদ্র্যতার কাছে হার মানেনি
কয়রার সোনিয়া সুলতানা
শত অভাব সত্বেও দারিদ্র্যতার কাছে হার মানেনি সোনিয়া সুলতানা। এবারের এস এস সি পরীক্ষায় কয়রা উপজেলার বড়বাড়ী মাধ্যমিক এন্ড কারিগরি স্কুল থেকে ড্রেস মেকিং বিভাগে গোল্ডেন জি পি এ-৫ পেয়েছে। সন্তানের এ সাফল্যে বেজায় খুশি কাছারিবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র বাবা আঃ কুদ্দুস গাজী ও মা ফাতেমা খাতুন। মেয়েকে শহরের ভালো কলেজে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা থাকলেও পারবে কিনা সেই ভাবনায় চিন্তিত তার পিতা ।
হোসেনপুরে হতদরিদ্র বাদলের
লেখাপড়া অনিশ্চিত
মো:বাদল মিয়া এবছর কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এ গ্রেড পেয়েছে। পাঁচ ভাইবোনসহ ৭ সদস্যের মুখে অন্ন তুলে দিতে বাদল মিয়া বাবার সাথে পরের জমিতে শ্রম বিক্রি করে সংসার চালায়। মেধাবী ছাত্র বাদল মিয়া উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অর্থাভাবে তার ভাল কলেজে ভর্তি কিংবা পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে দেখা দিয়েছে।
মত্স্যজীবীর ছেলে বিজয়
পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ
পাবনার সুজানগর পৌরসভার একেনের মোড় মহল্লার হতদরিদ্র মত্স্যজীবী সুবোধ সরকারের ছেলে বিজয় সরকার উপজেলার মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সংসারের অভাব-অনটন তার সাফল্য অর্জনে বাধা হতে পারেনি। সে মত্স্যজীবী বাবার সাথে নিজেও মাছ শিকার করে পড়ালেখার খরচ চালিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ।
পার্বতীপুরে দারিদ্রতাকে হার
মানিয়েছে মেধাবী সুজন
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে সুজন আলী এবারে এসএসসি পরীক্ষায় “গোল্ডেন এ প্লাস” পেয়েছে। উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মজনু সরকারের ছেলে সুজন। তিন বোন, এক ভাই, মা-বাবা মিলে অনাহারে-অর্ধাহারে কাটে তাদের সংসার। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে মানুষের বাড়িতে ধান কাটা, ফসল নিড়ানী, রাজ মিস্ত্রী ও কাঠ মিস্ত্রির হেলপারি করত সুজন। এখন সুজন আলীর চিন্তা, সামনে লেখাপড়ার ধাপগুলো সে কিভাবে পাড়ি দিবে।
