লোকসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করলেন সোনিয়া

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৪, ২২:৪৩
ভারতের কংগ্রেস পার্টির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী লোকসভায় তার দলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি জানিয়ে তিনি স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের কাছে একটি চিঠিও লিখেছেন। এদিকে সোনিয়া দলকে পুনর্গঠিত করার অঙ্গীকার করেছেন। কংগ্রেস চেয়ারপার্সন বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করলেও এক্ষেত্রে আইনগত কিছু বাধা আছে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টে বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে হলে কোনো দলকে মোট আসনের এক দশমাংশ আসনে জয় পেতে হবে। ভারতের লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩টি। সেক্ষেত্রে বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার জন্য ৫৪ টি আসন পেতে হবে। বর্তমানের ১৬ তম লোকসভায় কংগ্রেসের আছে ৪৪টি আসন। তবে সোনিয়া গান্ধী জানিয়েছেন, সংবিধানে ১০ শতাংশ আসনের কোনো ধারা নেই। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সোনিয়া। স্পিকার সুমিত্রা মহাজন যদি সোনিয়া গান্ধীর দাবি প্রত্যাখান করেন এবং লোকসভায় বিরোধী দলের কোনো নেতা যদি না থাকে তাহলে সেটা নতুন কিছু নয়। কারণ এর আগেও ভারতীয় লোকসভায় কোনো বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন না। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৭ সালের পঞ্চম লোকসভায় কোনো বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন না। সেই সময় কংগ্রেস ছাড়া পার্লামেন্টে একমাত্র দল ছিল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই)। তখন ৪৮৯ আসনের মধ্যে সিপিআই’র ছিল ১৬টি আসন। এজন্য সিপিআইকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। যদিও দলটির নেতা একে গোপালান নিজেকে প্রথম বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দাবি করেন। তবে সেটা ভুল। মজার বিষয় হলো লোকসভার ইতিহাসে প্রথম বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন কংগ্রেস দল থেকেই। ১৯৭৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেন। ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দল পরাজিত হয়। দলটি ১শত আসনে জয় পায়। ওই সময় কংগ্রেস দল থেকে বিরোধী দলীয় নেতা হন ওয়াইবি চবন।