ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, দিল্লীর ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদী সরকার বাংলাদেশের প্রতি ইতিপূর্বে দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখাবে। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে যে আলোচনা করেছেন তার মধ্য দিয়ে দু’দেশের নেতৃত্ব পর্যায়ে আলোচনায় বসার পথ সুগম হয়েছে। তারা সব ইস্যু নিয়েই কথা বলেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি খুবই স্পষ্ট হয়েছে। সম্পর্ক কেবল এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতিই নয়, বিগত বছরগুলোর মতো সম্পর্ক জোরদার করবে মোদী সরকার।
ভারতের হাই কমিশনার নয়াদিল্লীতে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে যা একাত্তর টেলিভিশনে শুক্রবার প্রচারিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের দিন-তারিখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের সফরগুলো এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। আমরা সফরের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ করছি। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার পরই আমরা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারবো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এ আমন্ত্রণে তিনি খুব সম্মানিত বোধ করেছেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়া, এর গতিপথ নির্ধারণ, আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ এবং অগ্রাধিকার— এসবই আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি তাই সত্যিকার সম্পর্কের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের কোনো সরকারই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতি অনুসরণ করে না। বাংলাদেশে কারা নেতৃত্ব দেবে, কোন দল নির্বাচিত হবে— তা একান্তই দেশের জনগণের বিষয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশে যত সরকার এসেছে, সবার সঙ্গেই এই নীতি অনুসরণ করেছে ভারত। আমি মনে করি, এতেই ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হয়। দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারের সময়ই কোনো না কোনো বিষয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে।
৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রয়োজনেই নির্বাচন হয়েছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে— এমনটাই আশা করা হয়েছিল। আমি মনে করি, আমাদের এখন বর্তমানকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। পুরনো বিষয় নতুন করে সামনে আনার কোনো প্রয়োজন আমি দেখি না, এখনকার এজেন্ডাই ভিন্ন। ভারতের সীমারেখার বাইরের কোন বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আবার ভিন্নরকম হয় এবং এতে অনেক বিষয় জড়িত থাকে।
পঙ্কজ শরণ বলেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ঠিক করে প্রেসিডেন্ট লোকসভায় একটা বক্তব্য দিয়েছেন। আর নতুন সরকারের প্রণীত সুস্পষ্ট অগ্রাধিকারগুলোর ভিত্তিতে সংহত ও আন্তঃসম্পর্কিত দক্ষিণ এশিয়া প্রাধান্য পাবে— এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া যা হবে সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল। এ ধরনের সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যেই আমরা একটি নীতিমালার রূপরেখা উপস্থাপন করেছি। কিন্তু এর পরও বাংলাদেশের আরো স্বার্থ আছে। তাই আমি বলতে চাই, নতুন সরকারের কাজ দেখেই আমরা বিচার করবো।
