শুরুতেই জাপানের স্বপ্নভঙ্গ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২০:১০
তারকা স্ট্রাইকার কেইসুকে হোন্ডা জাপানকে এগিয়ে দিলেও ৬২ মিনিটে মাঠে নামা দিদিয়ের দ্রগবার অনুপ্রাণিত খেলায় আইভরি কোস্ট ২-১ গোলে হারিয়ে দিল এশিয়ার দেশটিকে। এক গোলে পিছিয়ে পড়েও আইভরি কোস্ট বিরতির পর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে গোল দুটি দিয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিলো এশিয়ার অন্যতম ভরসা জাপানকে হারিয়ে। এসি মিলানের স্ট্রাইকার হোন্ডা ১৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের রেসিফের পারনামবুকো অ্যারিনায় এগিয়ে থাকা এশিয়ান জায়ান্টদের রাশ টেনে ধরেন তারকা স্ট্রাইকার দ্রগবা। চেলসির হয়ে বিশ্ব ফুটবলে নাম করা দ্রগবা মাঠে নামার সাথে সাথেই আইভরি কোস্ট দলের চেহারা পাল্টে যায়। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই উইলফ্রিড বোনি ও জারভিনহোর হেডে জয়ের দেখা পেয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দুটো গোলই আসে সের্জে অরিয়েরের কাছ থেকে। তবে বৃষ্টিস্নাত মাঠে এ খেলায় দ্রগবাই আইভরিয়ানদের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৬৪ মিনিটে রাইট ব্যাক অরিয়ারের বাঁকানো ক্রস থেকে প্রথমে উইলফ্রিড বোনি মাথা লাগিয়ে সমতা ফেরান। দুই মিনিট পরে আবারো অরিয়ারের ক্রস থেকে গারভিনহো গোল করলে জাপানীরা হতবাক হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্লু সামুরাইরা। এই জয়ে আইভরি কোস্ট ‘সি’-গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে কলম্বিয়ার সাথে যোগ দিল। দিনের প্রথম খেলায় বেলো হরাইজন্তেতে কলম্বিয়া ৩-০ গোলে গ্রীসকে হারিয়ে শুভ সূচনা করে। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসিলিয়ায় কোচ সাবরি লামুচির দল দক্ষিণ আমেরিকান দলটির এবং নাটালে জাপান সাবেক ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন গ্রীসের মুখোমুখি হবে। আইভরি কোস্ট ২০০৬ এবং ২০১০ সালের ব্যর্থতার পর এবার গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনোর জন্য বেশ জোর প্রস্তুতি নিয়েই ব্রাজিলে এসেছে। আর রেসিফে প্রথম খেলাতেই সেই প্রতিশ্রুতি চোখে পড়েছে। তার উপর হ্যামস্ট্রিং সমস্যা কাটিয়ে দলীয় অধিনায়ক ইয়াইয়া টোরে দলে ফিরে আসায় তা বাড়তি অনুপ্রেরণাও যুগিয়েছে। যদিও ম্যাচ শুরুর সময় মূল একাদশে ছিলেন না দ্রগবা। তার পরিবর্তে সোয়ানসি সিটির বোনিকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ সাবরি। মূলত শারীরিক দক্ষতার দিক থেকে কিছুটা হলেও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় এগিয়ে ছিল আফ্রিকান জায়ান্টরা। যদিও পেশীশক্তির কাছে পেরে না উঠলেও কৌশলগত দিক থেকে জাপানীরাই এগিয়ে ছিল। ব্লু সামুরাইদের পক্ষে যথারীতি হোন্ডা তার কৃতিত্বে ছিলেন সমুজ্জ্বল। খেলার ১৬ মিনিটে লেফট ব্যাক থেকে একটি বল বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো এসি মিলানের এই প্লে মেকারের পায়ে এসে পড়লে জোরালো শটে গোলরক্ষক বুবাকার ব্যারিকে পরাস্ত করতে সময় নেননি হোন্ডা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে জাপানের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন হোন্ডা। সেটাই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান বিশ্বকাপে জাপানের প্রথম গোল। যদিও শেষ ১৬তে গিয়ে জাপানকে বিদায় নিতে হয়েছিল। পুরো খেলায় বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি উভয় দলের। কিন্তু এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সময় যতই গড়িয়েছে আইভরিয়ানরা ততই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। ফ্রি-কিক থেকে ইয়াইয়া টোরে এবং আর্থার বোকা উভয়েই জাপানীজদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন। তবে দূরপাল্ল¬ার শটগুলোতে জাপানীজ গোলরক্ষক ইজি কাওয়াশিমা দক্ষতার পরিচয় দেন। ৬২ মিনিটে লামুচি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সেরে ডিয়ের পরিবর্তে দ্রগবাকে মাঠে নামান এবং সেটাই ছিল ফ্রান্সের এই কোচের ট্রাম কার্ড। পরবর্তী চার মিনিটের মধ্যেই ডান দিক থেকে ফ্রেঞ্চ ক্লাব তুলুজের ফুল ব্যাক অরিয়ারের ক্রস থেকে বোনি ও গারভিনহোর গোলগুলোতে ভূমিকা রাখেন দ্রগবাই। মূলত তার উপস্থিতিতে আইভরি কোস্ট যেন প্রাণ ফিরে পায়। জাপানের খেলায় অবশ্য তাদের মানসিক সামর্থ্যের ঘাটতি চোখে পড়ে। এ প্রসঙ্গে দলটির গোলরক্ষক ইজি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মানসিকতা বদলাতে হবে। প্রথম খেলাতেই হার মেনে নেয়াটা কঠিন। পরের খেলাগুলোতে আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিতে হবে।’ জাপান কোচ আলবার্তো জ্যাচ্চেরোনি অবশ্য এ জয়ের আইভরি কোস্টকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আইভরি কোস্টকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা দারুণ খেলেছে। আমরা তাদেরকে যথেষ্ট চাপে ফেলতে পারিনি। আমরা যথেষ্ট আক্রমণাত্মক হতে পারিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারিনি আমরা। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে যখন আমরা দুটো গোল হজম করি। নকআউট পর্বে পৌছাতে হলে আমাদের আরও ভালো করতে হবে। কাগজে কলমের হিসেবে জাপান তাদের গ্রুপ বিবেচনায় দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে বলে আশা করছে ফুটবল বোদ্ধারা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে দলটি এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এখন পরের দুই খেলায় কলম্বিয়া ও গ্রীসের মোকাবেলায় তাদের ভালো করতেই হবে। নইলে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে দলটিকে। বাসস/এএফপি