গোপনে মুক্তি পেল দণ্ডপ্রাপ্ত ৭ সেনা!

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২২:৫৮

রাখাইনে ১০ রোহিঙ্গাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় কারাদন্ডপ্রাপ্ত সাত সেনা সদস্যকে গোপনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের ১০ বছরের সাজা হলেও কারাবন্দি হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মাথায় তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। এক সেনা সদস্য মুক্তি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইনদিনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের রাখা হয় গণকবরে। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ রয়টার্সকে জানায়, ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী। গত বছরের এপ্রিলে দোষী সাব্যস্ত সেনাদের ১০ বছর করে কারাদন্ড দেয় সেনাবাহিনী। রয়টার্স জানায়, সাজাপ্রাপ্ত ওই সেনা সদস্যরা মুক্তি পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে কারাগারে ছিলেন এমন সাবেক দুই বন্দি জানান, দোষী সাব্যস্ত সেনা সদস্যরা গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি পেয়েছেন। ১০ বছরের কারাদন্ড হলেও এক বছরেরও কম সময় সাজা ভোগ করেন তারা।

রাখাইনের সিত্তে কারাগারের প্রধান ওয়াড্রেন উইন নাইং এবং নেপিদোর এক জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দন্ডপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা কয়েক মাস ধরে কারাগারে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেপিদোর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী তাদের সাজার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছে। ঠিক কবে ওই সেনা সদস্যরা মুক্তি পেয়েছেন তা তিনি জানেন না। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত ২৩ মে জিন পাইং সোয়ে নামের এক ব্যক্তি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেন, তিনি সাত সেনা সদস্যেরই একজন এবং বর্তমানে মুক্ত। তাদের চুপ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমপ্রতি সিত্তে কারাগার থেকে মুক্ত বেসামরিক কারাবন্দি অং থান ওয়াই সাত সেনা সদস্য সম্পর্কে বলেন, আমরা একই ভবনে ভিন্ন ভিন্ন কারা সেলে ছিলাম।