আসছে ঈদ, দিনরাত চলছে সেলাই মেশিন

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ০০:০৭

সেলাই মেশিনের শব্দে কান ধরে আসার উপক্রম। এক মুহূর্তের জন্য বিশ্রাম নেই। ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কিছুদিন বাকি। এর আগেই গ্রাহকের পছন্দের পোশাকটি তুলে দিতে হবে তার হাতে। তাই বিশ্রামকে উপেক্ষা করে নগরীর দর্জির দোকানগুলোতে চলছে ঈদ পোশাক তৈরির কাজ। বাহারি ডিজাইন, রঙ, লেইস ও এমব্রয়ডারি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে ঈদ পোশাক।

গতকাল সকালে কালিরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেট, ডিআইটি সোনার বাংলা মার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেল এমন দৃশ্য। দম ফেলারও যেন সময় নেই দর্জিদের। কয়েকজন দর্জির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর গ্রীষ্মে ঈদ হওয়াতে ক্রেতাদের মধ্যে বেড়েছে সুতি পোশাকের কদর। সুতি পোশাকে এমব্রয়ডারি ও বাহারি লেসের ব্যবহার ছিল লক্ষণীয়। কটনের পাশাপাশি রয়েছে লিনেন, সিল্ক, জর্জেট, নেটসহ অন্যান্য কাপড়। তবে কাপড় কিনে বানানোর তুলনায় তৈরি পোশাকে বেশি আগ্রহী ক্রেতারা। তাই রাউন্ড ফ্লোর টাচ ও থ্রি-পিস পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সাত রঙ এমব্রয়ডারির কর্মচারী মো. হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে এখন অনেক কাজ। দম ফেলার সময় নেই। পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিসের কাজই বেশি। পাঞ্জাবির কাজের উপর মজুরির পরিমাণ নির্ভর করে। মজুরি দুইশ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। হ্যাপী লেডিস টেইলারের প্রধান দর্জি বলেন, শেষ সময়ের অর্ডারগুলোই এখন নেওয়া হচ্ছে। ২ দিন পর আর কোনো অর্ডার নেওয়া হবে না। এবার ফ্লোর টাচ ও থ্রি-পিসের অর্ডার সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরো বলেন, ঈদ উপলক্ষে কাজ বেশি তবে মজুরি কম। আগে যে পোশাকের মজুরি ছিল চারশ, পাঁচশ এখন সেই পোশাকের মজুরি তিনশ টাকা। এ বছর থ্রি-পিসের মজুরি তিনশ থেকে আটশ টাকা এবং অন্যান্য ভারী পোশাকের মজুরি চারশ থেকে ১২শ টাকা। রিমা লেডিস টেইলারের কর্মচারী সিরাজুল মিয়া বলেন, আগে সবাই পোশাক নিয়ে আমাদের কাছে আসতো আর এখন বাড়ির পাশের কোনো দর্জির কাছে দিয়ে দেয়। সেখানে কাজের মান ভালো না হলেও মজুরি কম। তাই আমাদের গ্রাহক ধীরে ধীরে কমে আসছে। তাই বাধ্য হয়ে পোশাক তৈরির মজুরি কমাতে হয়েছে।