সেট হওয়া এবং ফিরে আসা

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:২৯
বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা প্রায়ই বলেন, আমাদের যেহেতু একক বড় তারকা নেই, মাঠে সবাই মিলে খেলতে হবে। এটা বোঝাতে প্রায়ই তারা ‘টিমগেম’ শব্দযুগল ব্যবহার করে থাকেন। অন্তত গতকাল ব্যাটিং পর্বে সেই ‘টিমগেম’-ই দেখালো বাংলাদেশ। ওপেনার তামিম ইকবাল, তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হক ও আট নম্বরে নামা জিয়াউর রহমান কিছু করতে পারলেন না। এ ছাড়া উইকেটে যে এসেছেন, সেই সেট হয়েছেন এবং মাঝারি একটা স্কোর করে আউট হয়েছেন। আর এই ‘দশে মিলে করি কাজ’ ব্যবস্থাতেই শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭২ রানের লড়াকু একটা পুঁজি দাঁড় করাতে পারলো মুশফিকুর রহিমের দল। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির বাগড়া এসে ম্যাচ পণ্ড করে দিতে চলেছিল। তবে বৃষ্টি বা বাংলাদেশের বোলাররা; কেউই সেরকম হুমকি হতে পারলো না ভারতের কাছে। সহজেই ম্যাচ বের করে নিলো তারা। বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সটা কতোটা সমন্বিত একটা প্রক্রিয়া ছিল, সেটা স্কোর বোর্ডে চোখ বোলালেই পরিষ্কার হবে। ১১ জন ব্যাটসম্যানই ব্যাট করতে নেমেছিলেন। এর মধ্যে সাতজনই দুই অংক ছুঁয়েছেন, চারজন ৪০-এর ওপরে স্কোর করেছেন; এর মধ্যে দু’জন আবার ফিফটি করেছেন। এই এতো সব মাঝারি ইনিংস দেখে আনন্দিত হওয়ার বদলে আপনি বিরক্তও হতে পারেন-কেন তাহলে এই গাদা গাদা সেট হওয়া ব্যাটসম্যানের কেউ বড় একটা ইনিংস কেন খেলতে পারলেন না? কেন এদেরই কেউ শেষ পর্যন্ত থেকে এই লড়াকু ইনিংসটাকে ম্যাচ জেতানো ইনিংসে পরিণত করে আসতে পারলেন না! অবশ্য দলীয় ৫ রানেই নড়বড় করতে থাকা তামিম ইকবাল কোনো রান না করে যেভাবে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে এলেন, তাতে ইনিংসটা এতোদূর যাবে, সেটাও কল্পনা করা কঠিন ছিল। এরপর একদিকে এনামুল হকের বাউন্ডারি প্রবণ ইনিংসের খানিকটা এগোতেই অন্য প্রান্তে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটল মুমিনুলের ফিরে আসার ভেতর দিয়ে; স্কোর বোর্ডে রান তখন মাত্র ৩৫। এই দু’জন ফেরার পরই শুরু হল সেই সেট হওয়া এবং সেট হয়ে ফিরে আসার খেলা। প্রথম উইকেট বাদ দিলে দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ উইকেট জুটি পর্যন্ত প্রতি উইকেট জুটিতে রান যোগ হয়েছে যথাক্রমে—৩০, ৫২, ৪৭, ৬৫ ও ৩০! এনামুল হক ৬০ বলে ৪৪ রান করে ফিরে গেলেন; ইনিংসে ৭টি চার তার। যে ৬০টি বল খেললেন এর মধ্যে ৩৮টিতেই রান করলেন না। এই চিত্রটা আসলে টপ ও মিডল অর্ডারে প্রায় সবার ক্ষেত্রে সত্যি। মুশফিক ও সাকিব ফিফটি করলেন। মুশফিক রানের ক্ষেত্রেও ৫৯ রানের ইনিংস খেলে নেতৃত্ব দিলেন। আর সাকিব ফিরলেন ৫২ রান করে। মাহমুদউল্লাহ ৪১ রানের ইনিংস খেললেন। কিন্তু সিঙ্গেল, ডাবল বের করে রানকে গতিশীল রাখার যে চেষ্টা সেটা খুঁজে পাওয়াই যেন গেল না। এবং যথারীতি তিনজনই ফিরে এলেন উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে। আর এই সেট হয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসার প্রবণতার ফলে শেষ ওভারগুলোতে স্বীকৃত আর কোনো ব্যাটসম্যানই রইলেন না উইকেটে। ফলে এই সময়টায় রান বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করাও কঠিন হয়ে গেল। তারপরও মাশরাফি ও রাজ্জাক একটা ধন্যবাদ পেতে পারেন শেষ ৬ ওভারে ৫৩ রান যোগ করে স্কোরটাকে সুদর্শন করে তোলায়।