হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৩৪
সেই কবে মহাকবি কালীদাস লিখেছিলেন—আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবস...! দুপুর বেলায় সূর্যের খরতাপ দেখে অন্তত মনে হয়নি, এবার আষাঢ়ের প্রথম দিনটা বৃষ্টি আসবে। কিন্তু পঞ্জিকাকে ভূল হতে দিল না প্রকৃতি। ঠিকই গতকাল আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো। তুমুল বৃষ্টিতে মাঠ পানির তলে চলে যাওয়ার উপক্রম হলো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বৃষ্টি, বাংলাদেশের বোলিং এবং লড়াকু পুজিকে পেছনে ফেলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়লো ভারত। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে করেছিল ২৭২ রান। বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ার ফলে ২৬ ওভারে ১৫০ রানের যে লক্ষ পুনঃনির্ধারিত হয়, তা টপকে যায় ভারত ৩ উইকেট হারিয়ে। ৭ উইকেটের এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। মূল লক্ষে ছুটতে গিয়ে ১৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১ উইকেটে ১০০ রান তুলেছিল ভারত। প্রায় ঘন্টা দেড়েক বৃষ্টির পর আবার যখন খেলা শুরু হল, ভারতের লক্ষ দাড়ালো বাকি ৯.২ ওভারে আর ৫০ রান। এই লক্ষটা সামান্য হলেও সাকিব ও রাজ্জাক শুরুর অন্তত তিনটে ওভারে একদম কাপিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। বৃষ্টির আগে অসমাপ্ত ওভারের শুরুতেই সাকিব নিয়েছিলেন উথাপ্পার উইকেট। খেলা শুরু হতে ওই ওভারের শেষ দুটি বলে দুটো আবেদনে আরেকটি উইকেট তুলে নিলেন। এরপর রাজ্জাক অসাধারণ বল করে উইকেট না পেলেও জিয়ার এক অবিশ্বাস্য ক্যাচে মাশরাফি তুলে নেন আজিঙ্কা রাহানের উইকেট। এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা ছিল দলীয় পারফরম্যান্সের এক নিদর্শন। অবশ্য দলীয় ৫ রানেই নড়বড় করতে থাকা তামিম ইকবাল কোনো রান না করে যেভাবে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে এলেন, তাতে ইনিংসটা এতোদূর যাবে, সেটাও কল্পনা করা কঠিন ছিল। এরপর একদিকে এনামুল হকের বাউন্ডারি প্রবন ইনিংসের খানিকটা এগোতেই অন্য প্রান্তে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটল মুমিনুলের ফিরে আসার ভেতর দিয়ে; স্কোর বোর্ডে রান তখন মাত্র ৩৫। এই দু জন ফেরার পরই শুরু হল সেই সেট হওয়া এবং সেট হয়ে ফিরে আসার খেলা। প্রথম উইকেট বাদ দিলে দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ উইকেট জুটি পর্যন্ত প্রতি উইকেট জুটিতে রান যোগ হয়েছে যথাক্রমে—৩০, ৫২, ৪৭, ৬৫ ও ৩০! এনামুল হক ৬০ বলে ৪৪ রান করে ফিরে গেলেন; ইনিংসে ৭টি চার তার। যে ৬০টি বল খেললেন এর মধ্যে ৩৮টিতেই রান করলেন না। এই চিত্রটা আসলে টপ ও মিডল অর্ডারে প্রায় সবার ক্ষেত্রে সত্যি। মুশফিক ও সাকিব ফিফটি করলেন। মুশফিক রানের ক্ষেত্রেও ৫৯ রানের ইনিংস খেলে নেতৃত্ব দিলেন। আর সাকিব ফিরলেন ৫২ রান করে। মাহমুদউল্লাহ ৪১ রানের ইনিংস খেললেন। কিন্তু সিঙ্গেল, ডাবল বের করে রানকে গতিশীল রাখার যে চেষ্টা সেটা খুজে পাওয়াই যেন গেল না। এবং যথারীতি তিন জনই ফিরে এলেন উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে। আর এই সেট হয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার প্রবনতার ফলে শেষ ওভারগুলোতে স্বীকৃত আর কোনো ব্যাটসম্যানই রইলেন না উইকেটে। ফলে এই সময়টায় রান বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করাও কঠিন হয়ে গেল। তারপরও মাশরাফি ও রাজ্জাক একটা ধন্যবাদ পেতে পারেন শেষ ৬ ওভারে ৫৩ রান যোগ করে স্কোরটাকে সুদর্শন করে তোলায়। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান রান বল তামিম ক ঋদ্ধিমান ব উমেশ ০ ১১ এনামুল ক রাউডু ব পারভেজ ৪৪ ৬০ মুমিনুল ক ঋদ্ধিমান ব উমেশ ৬ ১৭ মুশফিক ক রাহানে ব পারভেজ ৫৯ ৬৩ সাকিব ক ও ব রায়না ৫২ ৫৮ মাহমুদউল্লাহ ব মিশ্র ৪১ ৪৪ নাসির ক রাহানে ব মিশ্র ২২ ২০ জিয়া ক রায়না ব উমেশ ২ ৩ মাশরাফি ব প্যাটেল ১৮ ১৬ রাজ্জাক নটআউট ১৬ ১২ আল আমিন নটআউট ১ ২ অতিরিক্ত (লেবা ৩, ও ৮) ১১ মোট: ৫০ ওভারে ২৭২/৯ বোলিং: মোহিত ৫.৪-১-২৩-০, উমেশ ৯-০-৪৮-৩, উথাপ্পা ০.২-০-০-০, প্যাটেল ১০-০-৫৯-০, মিশ্র ১০-০-৫৫-২, পারভেজ ১০-০-৬০-২, রায়না ৫-০২৪-১ ভারত উথাপ্পা এলবিডব্লু সাকিব ৫০ ৪৪ রাহানে ক জিয়া ব মাশরাফি ৬৪ ৭০ পুজারা এলবিডব্লু সাকিব ০ ৫ রাইডু নটআউট ১৬ ১৯ রায়না নটআউট ১৫ ১১ অতিরিক্ত (ও ৮) ৮ মোট: ২৪.৫ ওভারে ১৫৩/৩ বোলিং: মাশরাফি ৫-০-২৫-১, আল আমিন ৫-০-৩২-০, সাকিব ৬-০-২৭-২, রাজ্জাক ৫-০-৩৪-০, জিয়া ১-০-৯-০, মাহমুদউল্লাহ ২.৫-০-২৬-০ ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী