ইটালির ইংল্যান্ড বাধা পার

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৩৫
শেষ রক্ষা হল না ইংল্যান্ডের। ব্রাজিলের উত্তর পূর্বাঞ্চলের গ্রীষ্মমন্ডলীয় মানাউসে আক্রমনের পর আক্রমন চালিয়েছিল স্টিভেন জেরার্ডের দল। কিন্তু তাদের চেয়েও দুর্বার ছিল ইতালি। খেলার ফলাফলও সে কথাই বলছে। মানাউসে গত শনিবার রাতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুন ভাবেই বিশ্বকাপের সূচনা করলো তিন বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বৃষ্টির জন্য পরিচিত মানাউসের অ্যামাজনাস শহরের অ্যামাজোনিয়া অ্যারেনাতে ম্যাচের দিনও ছিল বৃষ্টিস্নাত পরিবেশ। বিশ্বকাপের সূচি ঠিক হওয়ার পর থেকেই শহরটির আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল ইংল্যান্ডের। গরমের মধ্যে হঠাত্ বৃষ্টিও তাদের ভাগ্যে পরিবর্তন আনতে পারলো না। ৩৫ মিনিটে ক্লদিও মারকিসিও ইতালিকে এগিয়ে দেবার দুই মিনিট পরে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ড্যানিয়েল স্টারিজ ইংলিশদের পক্ষে সমতা ফেরালে সমর্থকরা বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়ে। ১৯ বছর বয়সী লিভারপুলের স্ট্রাইকার রাহিম স্টার্লিং ইংল্যান্ডের পক্ষে বেশ কয়েকটি আক্রমন চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার বালোতেল্লির কাছেই পরাজিত হতে হয় রয় হজসনের শিষ্যদের। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বালোতেল্লি। তার হেডেই ২০১২ সালের ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টিতে ইতালির কাছে পরাজিত হবার প্রতিশোধ নেয়া হলো না ইংল্যান্ডের। এই জয়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে শুক্রবারের ম্যাচের আগে বেশ ভাল অবস্থানেই থাকলো সিজার প্রানদেল্লির দল। এদিনের শুরুতে রেসিফেতে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ী হয়ে অঘটন ঘটিয়েছে কোস্টারিকা। ইতালির পক্ষে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন সালভাতোরে সিরিগু। ম্যাচের শুরু থেকেই স্টার্লিং নিজেকে মেলে ধরেন। ৩০ গজ দূর থেকে তার জোড়ালো শট আরেকটু হলেই গোলের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছিল। তার পারফরমেন্সে উজ্জীবিত হয়ে জর্ডান হেন্ডারসনও শক্তিশালী শটের মাধ্যমে সিরিগুর পরীক্ষা নেন। ইংল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণের মধ্যে ইতালি নিজেদের ফিরে পেতে কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যের কারণে ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া হয়নি। উল্টো আন্দে পিরলোর পাস থেকে মারকিসিও ২০ গজ দূর থেকে আজ্জুরিদের এগিয়ে দিলে ইংলিশ শিবিরে হতাশা দেখা দেয়। যদিও দুই মিনিটের মধ্যেই বাম দিক থেকে স্টার্লিংয়ের দুর্দান্ত পাস পেয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা রুনি বাম পায়ে স্টারিজের উদ্দেশ্যে ক্রস করলে তার থেকে সমতা ফেরান এই স্ট্রাইকার। ইংল্যান্ডের এই গোল উত্সব অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যে ডানদিক থেকে পাওয়া ক্রস থেকে বালোতেল্লি দলকে এগিয়ে দিলে ইংল্যান্ড পুরো ম্যাচে আর ফিরে আসতে পারেনি। ইনজুরি টাইমে পিরলোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে না লাগলে আরো বড় জয় নিয়েই হয়ত মাঠ ছাড়তো আজ্জুরিরা।