বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হয়েছে

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৩৭
সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট তাকিহিকো নাকাও বলেছেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। দারিদ্র্র্য হ্রাস ও সামাজিক উন্নয়নের মতো অন্যান্য অনেক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। গতকাল ঢাকাস্থ এডিবি কার্যালয়ে সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীক পরিবেশের আরো উন্নতি করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।বাংলাদেশে অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগ অনেক কম উল্লেখ করে এডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ জিডিপির মাত্র ৩ শতাংশ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করে যেখানে চীন করে ১৫ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এর জন্য সরকারকে অবশ্যই জিডিপির হিসাবে কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর করতে হবে। তাকিহিকো নাকাও আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা রয়েছে তাতে কয়েক বছরের মধ্যেই মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হয়েছে। বিশ্বের যে কোন দেশের বিনিয়োগ গন্তব্য হতে পারে বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের মতের ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৬ শতাংশ, বাংলাদেশ সরকার বলেছে ৬ শতাংশের উপরে। আমরা অনুমান করছি আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.২ শতাংশের মতো, সরকার তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৭.৩ শতাংশ। সরকার অনেক সময় উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করে এবং অনেক সময় এটা ঠিকও হয়।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, এখানে ছোটখাট যেসব রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করেন এডিবি প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর যাবত্ গড়ে ৬ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে ৫৬.৭ শতাংশ দারিদ্র্যের হার থেকে ২০১০ সালে সাড়ে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে। মাত্র দু’ দশকে ২৫ শতাংশ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে এডিবি’র সাথে দীর্ঘ ৪০ বছরের সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সবমিলিয়ে এডিবি’র সহায়তার পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়ন, জ্বালানি সহযোগিতামূলক প্রকল্পে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া কর্মসংস্থান তৈরিতে কৃষি ও গ্রামীণ উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এডিবি প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমান সফরকালে এডিবি’র সহায়তাপুষ্ট সিরাজগঞ্জে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ , বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু, আলোকদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা পরিদর্শন করবেন।