ভরা মৌসুমেও বোরো সংগ্রহে ধীরগতি

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৩৭
অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে সরকারের বোরো সংগ্রহ অভিযান। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও গত প্রায় দেড় মাসে মাত্র ২ লাখ ৭ হাজার ১০২ টন চাল সংগ্রহ করেছে। অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। দেশের হাট-বাজারগুলোতে ধান-চালের প্রচুর আমদানি। প্রতি বছর মৌসুমের শুরুতে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার অনেকখানিই পূরণ হয়। তারপর ধান-চালের সরবরাহ কমতে থাকায় ভাটা পড়তে থাকে সংগ্রহ অভিযানেও; কিন্তু এবার ভরা মৌসুমেই সংগ্রহ অভিযানে ভাটা পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাজারে চালের দাম বাড়ায় মিলাররা সরকারের গুদামে চাহিদামতো চাল সরবরাহ করছে না। ফলে সংগ্রহ অভিযানে ভাটা পড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে বাজারে এখন প্রতি কেজি মোটা চাল (ইরি/স্বর্ণা) ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে একই মানের প্রতি কেজি চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ টাকা। ফলে মিলাররা সরকারের গুদামে চাল না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। এছাড়া ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৭ লাখ টন চাল সরবরাহের জন্য মিলারদের সাথে চুক্তি করতে পেরেছে খাদ্য অধিদপ্তর। ফলে বোরো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। দাম বাড়ায় সরকারের গুদামে চাল সরবরাহে ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির আহ্বায়ক কে এম লায়েক আলী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে ৩১ টাকা দরে চাল সরবরাহে চুক্তি করলেও বাজারে এখন চালের কেজি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা। তবে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান ইত্তেফাককে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। মিলারদের সাথে ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন চাল সংগ্রহের চুক্তি হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাকি চাল সংগ্রহেও চুক্তি করা সম্ভব হবে।