শ্রীলংকায় বেতন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সব ধরনের বাজেট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সংসদ। কার্যালয়টি প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা কর্তৃক সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে দখল করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন দখলে রেখেছেন বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। উভয়ই নিজেকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করছেন। এনডিটিভি।
এরই মধ্যে শ্রীলংকার সংসদে দু’দফা ভোটাভুটিতে হেরেছেন রাজাপাকসে। সিরিসেনা বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংসদ বৃহস্পতিবার ঘোষণা দেয়, তারা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জন্য আর কোন অর্থ ছাড় করবেন না। তাদের দাবি রাজাপাকসে ও তার প্রসাশন বৈধ নয়। সুতরাং তারা সরকারের খরচ নিতে পারেন না।
সাবেক অর্থমন্ত্রী রাভি করুনায়েকে জানান, বাজেট বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ১২৩ জন সংসদ সদস্য। মোট ২২৫ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন সংসদটিতে। তার মতে এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অকার্যকর হয়ে পড়বে।
২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপল সিরিসেনা। বিরোধীরা প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক দাবি করেন।
আরও পড়ুনঃ ন্যাটোকে আজোভ সাগরে রণতরী পাঠানোর আহ্বান ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের
এর আগে কয়েক মাস ধরে শ্রীলংকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ‘সিরিসেনাকে হত্যায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রচেষ্টা’ নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রনিল বিক্রমসিংহের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিলো না। তাদের দুইজনের দ্বন্দ্বে রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর জেরে বর্তমান জোট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেয় প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স। এক সময়ের মিত্র রাজাপাকসের দিকে ঝুঁকে পড়েন সিরিসেনা। এরপরই ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি হতে আসা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহকে বহিষ্কার করেন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় সরকার ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। এখানে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের নেতৃত্বে থাকলেও নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রেসিডেন্টের হাতে। মন্ত্রিসভাও তার অধীনেই পরিচালিত হয়।
২০১৫ সালের নির্বাচনে রাজাপাকসেকে পরাজিত করেছিলেন সিরিসেনা। পরাজিতরা একে ‘ভারত সমর্থিত অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করেন।
ইত্তেফাক/টিএস
