ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের সাফল্য নেই কর্ণফুলীতে

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৪, ২২:৪২
ময়লা আবর্জনা পড়ে দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলী নদী। আবার শহর ও শহরতলীর পাহাড় টিলাসহ খোড়াখুড়ির বালু মাটি খাল-নালা নর্দমা দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। যার কারণে পলিতে ভরাট হচ্ছে নদীটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্ণফুলীতে পলি অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে চলেছে। এর ফলে নাব্যতা দিনদিন কমে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পও এই কারণে সফলতা পাচ্ছে না। ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের ঠিকাদার মালয়েশিয়ান মেরিটাইম ড্রেজিং কোম্পানি (এমএমডিসি) নদীতে ড্রেজিং করার ক্ষেত্রে অভিযোগ করেছে, পলি পড়ার যে মাত্রা তাদেরকে বলা হয়েছে বাস্তবে পলিতে ভরাট হচ্ছে নদী তারচেয়েও অনেক বেশি। এর জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। কর্ণফুলী নদীর সাথে চট্টগ্রাম শহরের ৫৫টি খাল ও নালার সংযোগ রয়েছে। এ সকল খাল-নালা নর্দমা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২২ শত টন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, গতি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং এর দূষণ রোধে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল, নালা পরিষ্কার করা এবং এগুলো খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে নালা-নর্দমা হয়ে যাতে দূষিত পানি কোন প্রকার ট্রিটমেন্ট ছাড়া নদীতে না পড়তে পারে সেজন্যও পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে উজানে রাউজানের নোয়াপাড়ার কচুখাইন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীর উভয় তীরের সকল নালা-নর্দমা, খাল এবং শিল্প কল কারখানা বন্দর কর্তৃপক্ষের নাব্যতা রক্ষা ও দূষণ রোধ এই কার্যক্রমের আওতায় থাকবে। কর্ণফুলীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং দূষণের জন্য মূলত চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যই দায়ী। এর মধ্যে মানুষ ও জীবজন্তুর মলমূত্র যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে কঠিন বর্জ্যও। চট্টগ্রাম বন্দরে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতি অব্যাহত রাখা এবং দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমদকে প্রধান করে পরিবেশ অধিদফতর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গতকাল রবিবার প্রথম বৈঠকে মিলিত হয়েছে। জানা যায়, বৈঠকে চারটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর দূষণের কারণ চিহ্নিতকরণ। এর জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। কর্ণফুলী নদীর সাথে সংযোগ খাল নালা নর্দমা চিহ্নিতকরণ এবং শিল্প কল কারখানার কোনগুলো দূষণ সৃষ্টি করছে তাদের চিহ্নিত করা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে চট্টগ্রাম ওয়াসা সৃষ্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত এর সুয়ারেজ সিস্টেম চালু হয়নি। ফলে মানুষের মল-মূত্রের বিশাল অংশ সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে পড়ে পানি দূষিত হয়। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের নালা নর্দমা দিয়ে পলিথিনসহ অন্যান্য কঠিন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে।