চারটি বছর ঘুরে দুয়ারে এসে দাঁড়ালো বিশ্বকাপ। ফুটবলপ্রেমীরা রাত জেগে উপভোগ করবেন প্রিয় দলের খেলা। আর খেলায় নানা ধরনের শৈল্পিকতার কারণে ভক্তদের কাছে জনপ্রিয় হন খেলোয়াড়েরা। শৈল্পিক খেলার পাশাপাশি এসব খেলোয়াড়ের রয়েছে নিজস্ব কিছু স্টাইল। তেমনই কয়েকজন তারকাদের ফ্যাশনের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
খেলোয়াড়দের স্টাইলের মধ্যে চুলের বাহার সকলের নজর কাড়ে। অনেক ফুটবলার শুধুমাত্র তাদের চুলের কারণে বিখ্যাত হয়ে আছেন। নারী-ভক্তদের কাছে খেলার চেয়ে খেলোয়াড়দের চুলের ঢং-ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিফা বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই চুলের বাহারি ঢং দেখা যায়। চুলের ঢং অবশ্য নতুন কিছু নয়। এটি সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। খেলোয়াড়দের বাহারি চুল নতুন ফ্যাশনে রূপ নেয়। চুলের এই বাহাড়ি ঢঙের কারণেই এখনও ফুটবল ইতিহাসে জনপ্রিয় হয়ে আছেন অনেকেই।
তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকজন হলেন, নেইমার, মেসি, রোনালদোর মতো দামি খেলোয়াড়। চুলের স্টাইলে জননন্দিত ছিলেন অস্ট্রিয়ার সাবেক কোচ ও খেলোয়াড় কন্সট্যান্টিনি।
অলিভার গিরন্ড
তিনি ফ্রান্স এবং আর্সেনাল টিমে খেলেন। ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার তার চুল এবং চোখের কারণে বিখ্যাত। সম্প্রতি তিনি টেটু নামের একটি ফ্রেঞ্চ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হয়েছিলেন।
জেরান্ড পিকে
স্পেন ও বার্সালোনায় খেলেন ২৭ বছরের এই তরুণ। তিনি তার দলের সবচেয়ে সুদর্শন তারকা। এবং সেই সাথে বেশ কিছু টুর্নামেন্ট জেতার কারণে মিডিয়ার নজরে আসেন। বেশ কিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন। বিশেষভাবে আলোচিত তার পোশাকের কারণে।
লুইস সুয়ারেজ
উরুগুয়ের খেলোয়াড়। লিভারপুলে খেলেন। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছিলেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তার খেলার কারণে বেশ নাম করেন তিনি। এরপর তিনি অ্যাডিডাসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন। চুলের স্টাইলের কারণে বিখ্যাত তিনি।
রোনালদো
একজন একজন পর্তুগিজ ফুটবলার যিনি স্পেনীয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং পর্তুগাল জাতীয় দলে একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে থাকেন। ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে তাদের দলে নিয়ে আসে যার ফলে রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের সম্মান পান। রোনালদো, রিয়াল মাদ্রিদের সাথে চুক্তি অনুসারে প্রতি বছর ২১ মিলিয়ন বেতন পান, যার ফলে তিনি সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত খেলোয়াড়। ডেভিড বেকহ্যামের পর ফুটবল বিশ্ব যাকে চিনে স্টাইল আইকন হিসেবে সেই রোনালদো এবার বান্ধবী ইরিনাকে নিয়ে মডেল হলেন ভোগ ম্যাগাজিনে। ফরমাল ও স্টাইলিশ চুলের জন্য ভক্তদের মন জয় করেছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছোট চুলের আকর্ষণীয় লুক রোনালদোর মধ্যে দেখা যায়। স্পাইক ও হাইস্পিড কালার করে ফ্যাশনে বৈচিত্র্য এনেছেন তিনি। এছাড়াও বাহাড়ি ঝাঁকড়া চুলের কারণে ফুটবল বিশ্বে আলোচিত ফুটবলার কার্লোস ভালদেরামার কথা মনে নিশ্চয় মনে আছে। কলম্বিয়ার সাবেক এই ক্যাপ্টেন দারুণ প্রতিভাধর ফুটবলার ছিলেন। ভালদেরামার দলের আরেক কেশবান ছিলেন গোলকিপার রেনে হিগুইতা। শুধুমাত্র কার্লি চুলেই নন। হিগুইতা স্টাইলিশ ছিলেন তার খেলাতেও। গোলকিপার হয়েও হিগুইতা প্রায়ই বল নিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের কাটিয়ে উঠে আসতেন মধ্যমাঠে।
ইংলিশ লিগ ও ইউরোপের এক সময়ের সেরা দল নটিংহ্যাম ফরেস্টের সাবেক মিডফিল্ডার জেসন লি। তার পাইন অ্যাপেল হেয়ার স্টাইল ভক্তদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
’৯৪ বিশ্বকাপে চুল নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন যুক্তরাষ্ট্রের আলেক্সি লালাস। মেটালহেড এই খেলোয়াড় মূলত মেটালিকার লিড ভোকাল জেমস হেটফিল্ডকে অনুসরণ করেই চুলের এই স্টাইল বেছে নেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওই বিশ্বকাপে চুলের জন্য সবচেয়ে বেশি হাইলাইটেড ছিলেন ইতালির রবার্তো ব্যাজিও। স্টাইলিশ চুলের জন্য জননন্দিত ছিলেন ইংলিশ ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যাম। তার যে কোনো কাটের সাথে তাল মিলিয়ে চুলের স্টাইল করতেন অনেক ভক্তরা।
বর্তমান সময়ের হটকেক আর্জেন্টিনার ফুটবলার মেসির মতো চুলের স্টাইল করতে চান অনেকেই। একটু লম্বা, এলোমেলো এ ধরনের চুলের স্টাইলের নামই হয়ে গেছে ‘মেসি লুক’। কয়েক রকম চুলের স্টাইলে মেসি লুক ভালো লাগে, যেমন :মোহক, লেয়ারড, চপি ইত্যাদি। চুলে রং করিয়ে মেসি লুক আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। এ সময়ের নান্দনিক খেলা ও চুলের স্টাইলের জন্য বিখ্যাত ব্রাজিলের নেইমার। নেইমার দুই পাশের চুল খাটো করে মাথার মাঝ বরাবর লম্বা করে চুল রাখে। কখনও কখনও চুল রঙিন করতেও দেখা যায় তাকে। উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা করে প্রতিনিয়তই সমাদৃত হয়েছেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি। তার চুলের কাটটাও বেশ ভিন্ন। একেক সময় একেক রং মাখেন চুলে।
