জিএসপি ফিরে পেতে সরকার ৯৮ ভাগ শর্তই পূরণ করেছে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৪, ২২:১২
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটতে ‘গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব বাংলাদেশ গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, জিএসপি সুবিধা পেতে সরকার ৯৮ ভাগ শর্তই পূরণ করেছে। তবে সেমিনারে ঢাকার বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ৯৮ ভাগ নয়, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে শতভাগ শর্তই পূরণ করতে হবে। সেমিনারে ড্যান মজীনার সঙ্গে একমত পোষণ করে ডেমোক্রেট দলের প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য জর্জ মিলারসহ মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে তাদের নেতিবাচক মনোভাবই তুলে ধরেন। স্থানীয় সময় শনিবার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের আয়োজন করে হার্ভার্ড ইউনির্ভাসিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ক এই সেমিনারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), হিউম্যান রাইটস নেতা, গার্মেন্ট ব্যবসায়ীসহ দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেমিনারে মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা ঘুরে-ফিরে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সরকারের পক্ষে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। একপর্যায়ে সেমিনারে মৃদু যুক্তি-তর্কও শুরু হয়। দিনব্যাপী দুই পর্বের এই সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন হার্ভার্ড ল’ স্কুলের প্রফেসর জন কেলচি এবং সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট’র সদস্য ইকবাল ইউসুফ। সেমিনারে দুই পর্বে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে কংগ্রেসম্যান জর্জ মিলার ও ঢাকার বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। তাদের প্রবন্ধে অভিন্নভাবে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তাহীনতা, শ্রমিকের মজুরি স্বল্পতা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের হত্যা-নির্যাতনসহ নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়। কংগ্রেসম্যান জর্জ মিলার বলেন, বাংলাদেশে নির্ভয়ে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দিতে হবে এবং জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান না হলে জিএসপি সুবিধার কথা ভাবা সম্ভব হবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ প্রসঙ্গে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে সরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি কঠিন শর্ত রাতারাতি শতভাগ পূরণ সম্ভব নয়। তবে এসব শর্তের ৯৮ ভাগই পূরণ হয়েছে। এসময় তিনি ইউএস এইড ও ইউকে এইডের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, যারা ওয়াশিংটনে এসে শুনানি করেন, তারা কেউ শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি নয়। সেমিনারে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর নিভাস রেড্ডি বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে তারা আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছেন যে মাত্র শতকরা ২ ভাগ ভবনের অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ৯৮ ভাগই এ সমস্যামুক্ত ও নিরাপদ। সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র সফররত নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, জেনেভায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত তৌফিক আলী, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মারা বার, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের জিএসপি বিষয়ক আন্তর্জাতিক ব্যুরোর দক্ষিণ এশীয় প্রধান মাইকেল ডোনাভান, যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ম্যানেজমেন্ট অরবিট্রেট’র আরনল্ড জ্যাক ও প্রতিনিধি সেলেসটে ড্রেক, ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি স্কট নোভা বক্তব্য দেন। বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।