জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ০০:৩৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের কল্যাণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ভোটে জয়লাভ করলেই চলবে না, জনগণের হূদয়ও জয় করতে হবে। জনগণ আপনাদেরকে যে বিশ্বাস এবং আস্থা নিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের সে বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা দিতে হবে। কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। মসিক নব নির্বাচিত মেয়র ইকরামুল হক টিটুকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরসহ ৪৪ জন নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনস্বার্থে যদি আপনি কাজ করেন, মানুষের হূদয় যদি আপনি জয় করতে পারেন তাহলে দেখবেন জনগণই আপনার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে এবং আপনাকে তাদের সেবা করার সুযোগটা বারবার দেবে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আপনারা তাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন। তাদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব রয়েছে। রাজনীতিটা যদি ব্যক্তি স্বার্থে হয় তাহলে সে রাজনীতি কখনও জনগণের কল্যাণ করতে পারে না।’ প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ওপর বিরাট দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী তখন সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দল মত নির্বিশেষে সকলের কল্যাণ করাই আমার দায়িত্ব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারাও সেভাবে নিজেকে মনে করবেন এবং স্ব-স্ব দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। বিশ্বের দরবারে যে মর্যাদার আসন করে নিয়েছে সেটা অব্যাহত থাকবে। আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন এবং আমার তরফ থেকে সবরকম সহযোগিতা আপনারা পাবেন। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ নতুন সিটি করপোরেশন, এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে সেটা আপনারা পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে অতীতের তুলনায় কয়েকগুন বাজেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে এ বছরের বাজেট পেশ করা হবে এবং এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। তিনি বলেন, উন্নয়ন বাজেট যা অতীতে ছিল মাত্র ১৯ হাজার কোটি টাকা সেটার আকার দাঁড়াবে এবার প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। অর্থাত্ উন্নয়নের ছোঁয়াটা কেবল শহরভিত্তিক নয়, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম ভিত্তিক যেন হয়। আর এবারেও আমরা ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করেছি। দেশের বাজেটের ৯০ শতাংশ সরকার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বাস্তবায়ন করে থাকে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদক- যা একটা পরিবারকে ধ্বংস করে, একটি দেশকে ধ্বংস করে, সমাজকে ধ্বংস করে। কাজেই, আপনাদের কারো ছেলে-মেয়েই কখনো যেন এদিকে দৃষ্টি না দেয়। এর সঙ্গে জড়িত না হয়।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনাদের গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং এসব প্রতিরোধে একযোগে কাজ করতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ময়মনসিংহসহ এই অঞ্চলের মানুষের যেন সার্বিকভাবে কল্যাণ হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন করা হয়েছে। কাজেই তিনি নতুন সিটি করপোরেশনে কাজের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সচেষ্ট থাকার জন্যেও নির্বাচিতদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পরই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন করে। তার সরকার ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশকে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত করে। ২০০১ সালে সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সময়ও দেশে ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত ছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একরামুল হক টিটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আহমেদ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। গত ৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ময়মনসিংহের সিটি নির্বাচনের ৩৩টি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৭ হাজার।