নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমার তাগিদ দিয়ে পত্র দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমাদানের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গতকাল সোমবার এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশনে নিবন্ধিত ৪১টির মধ্যে ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। তবে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করায় দলটিকে এ চিঠি দেয়া হয়নি। প্রতিবছর কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব জমা না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ৩১ জুলাই এর আগে প্রতিটি দলের বাত্সরিক অডিট রিপোর্ট ইসি সচিবালয়ে জমা দিতে বলা হয়। এর আগে সংশ্লি¬ষ্ট দলের আর্থিক হিসাব দেশের নিবন্ধিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা অডিট করাতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলো আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেয়া হয়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাতের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কোনোভাবেই অসম্পূর্ণ হিসাব গ্রহণ করবে না কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠির পাশাপাশি হিসাব পাঠানোর ফরমও পাঠানো হয়েছে।
২০০৮ সাল থেকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের প্রতি বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারার বলা হয়েছে, কোন নিবন্ধিত দল পরপর তিন বছর তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।
২০১০ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২১টি রাজনৈতিক দল তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে পেরেছিল। ২০১১ সালে কমিশনের নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৩১টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। ২০১২ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৬টি দল তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করে কমিশনে। তবে এবার কমিশন সবদলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা চায়।
