বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বলেছে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কর হার কমানো উচিত। একদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কর বাড়ানো হচ্ছে এবং অন্যদিকে পুঁজিবাজারের তালিকার বাইরের কোম্পানিগুলোর কর কমানো হচ্ছে। এর ফলে নতুন করে ভাল কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে নিরুত্সাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে উল্টো যারা করের আওতার বাইরে রয়েছে তাদের করজালের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, এ বাজেট মোটেও পুঁজিবাজারবান্ধব নয়। বাজেটের কিছু প্রস্তাব বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেয়া হলেও ঘোষিত বাজেটে সবই উপেক্ষিত থেকেছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএমবিএ’র সভাপতি তানজিল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, অর্থ সম্পাদক মোস্তফা কামালসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা। এ সময় সহ-সভাপতি আখতার হোসেন সান্নামাত বলেন, বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ৪ হাজার কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে। যতদিন যাচ্ছে ততই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। আর ব্যাংকগুলোকে ঋণ ও সুদ উভয়ের ওপর কমিশন ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোও প্রাইভেট কোম্পানি। সেক্ষেত্রে এদের সাথে কর বৈষম্য থাকা উচিত না। তাই আগামীতে অর্থমন্ত্রীর কাছে ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করে বিএমবিএ।
লিখিত বক্তব্যে সান্নামাত বলেন, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স প্রস্তাবিত বাজেটে রাখার সময় বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। গেইন ট্যাক্সের কী ধরনের প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়বে তা বিবেচনা করা হয়নি। পুঁজিবাজারের স্বার্থে এটি প্রত্যাহার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হলে পুঁজিবাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সান্নামাত বলেন, তালিকা বহির্ভূত কোম্পানিগুলোর কর কমানো হয়েছে। কিন্তু বিএমবিএ তালিকা বহির্ভূত কোম্পানি হওয়ার পরও কর কমানো হয়নি। বিএমবিএ’র কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার দাবি করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীকে ঋণ পেতে হলে ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ শতাংশ সুদ দিতে হয়। বিএমবিএকে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ৫ শতাংশ হারে ঋণ দেয়, তাহলে তারা ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে বিনিয়োগকারীদের হাতে এ ঋণের টাকা তুলে দিতে পারবে। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
